রবিউল হাসান রবি, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম বন্দর মেরিটাইম সেক্টরে নেতৃত্ব দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, গেটওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর। বিগত সময়ে বন্দর আরও গতিশীল হয়েছে। ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সার্ভিস জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। বন্দরের সামনে মেরিটাইম সেক্টরে নেতৃত্বের হাতছানি রয়েছে। বন্দরের সংকল্প ও সক্ষমতা আছে বলেই বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে ধরনা দিচ্ছে।

রোববার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বারিক বিল্ডিং এলাকার সার্ভিস জেটি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে। বঙ্গবন্ধুই মেরিটাইম নিয়ে ভেবেছিলেন, আইন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ বন্দর দেশের সব জনগোষ্ঠীর। তাই বন্দরের অনেক সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের উন্নয়নের জন্য নিরলস ভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাজ করে যেতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বন্দরের নানা কার্যক্রমের তুলে ধরে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, বর্তমানে বন্দরে জাহাজের ওয়েটিং টাইম জিরো। এতে ফরেন কারেন্সি সাশ্রয় হচ্ছে। জাহাজ ভাড়া, ইন্সুরেন্সের প্রিমিয়ামও কমে গেছে। আমরা পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ১৩৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে ৩২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছি। কনটেইনার ধারণক্ষমতার সক্ষমতাও বেড়েছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল উদ্বোধন করতে পারবো। আর বে টার্মিনাল হলে বড় জাহাজ দিন-রাত ভিড়তে পারবে।

বন্দর সচিব মো. ওমর ফারকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএসসির এমডি, মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট, বন্দর সিবিএ নেতৃবৃন্দ, বন্দর ব্যবহারকারী প্রমুখ।

এর আগে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বন্দরের সার্ভিস জেটি, বন্দরের জন্য কেনা কাণ্ডারী-৬ টাগবোট, ওভার ফ্লো ইয়ার্ড ও সুইমিং কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন।

এ সময় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীকে সার্ভিস জেটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ৭২২ ফুট লম্বা সার্ভিস জেটি নির্মাণের ফলে বন্দরের মালিকানাধীন প্রায় ৩৫টি ভেসেল পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ২ হাজার ৬৫০ বর্গফুটের ৩ তলা একটি অফিস ভবন, ৩ হাজার বর্গফুটের স্টিল কাঠামোর একটি ওয়্যারহাউস, ২ হাজার ১০০ কিউবিক মিটারের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পানির রিজার্ভার, ২২২ মিটার দৈর্ঘ্যের ৮ ফুট উঁচু রিটেইনিং ওয়াল, রিভার ব্যাংক ও শোর প্রোটেকশন, ড্রেনেজ সিস্টেম, ৫০০ কেভির বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন এবং ১০০ ফুট উঁচু সিগন্যাল টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বন্দরকে কাণ্ডারী-৬ টাগবোটের বিল্ডার্স সনদ, রেপ্লিকা, ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান।

তিনি বলেন, টাগবোটটি বানানোর জন্য ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে আমরা চুক্তিবদ্ধ হই। ২০১৯ সালের ৩০ জুন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়। গভীরতা ৩.৭৫ মিটার এবং ৩৩ মিটার দীর্ঘ টাগবোটটি ৪০টি বিপি (বলর্ড পুল-জাহাজের শক্তির একক) ক্ষমতার। বন্দরকে টাগবোটটি হস্তান্তর করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

বন্দর সচিব মো. ওমর ফারক বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বন্দর স্টেডিয়ামের পাশে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত আর্ন্তজাতিক মানের সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

১২৫০ বর্গমিটার (দৈর্ঘ্যে ৫০ মিটার ও প্রস্তে ২৫ মিটার) আয়তনের সুইমিং কমপ্লেক্সটির একপাশের গভীরতা সাড়ে ৪ ফুট এবং অপরপাশে সাড়ে ১৩ ফুট। পুলে রয়েছে ৮টি লেন, যাতে একসাথে ৮ জন সাঁতারু লো ডাইভিং দিতে পারবেন। এতে রয়েছে পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের জন্য আলাদা ড্রেসিংরুম, শাওয়ার জোন ও টয়লেটের ব্যবস্থা।