বিশেষ প্রতিনিধি : ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন সম্প্রতি নিউইয়র্ক থেকে কুলাউড়ায় আসলে প্রেসক্লাব কুলাউড়ার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সভাপতি আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ এর উপস্থাপনায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে এম এম শাহীন বলেন, গত ৪৫ বছর থেকে কুলাউড়ার মানুষের কল্যাণে কখনও সংবাদপত্র, কখনও সংগঠন, কখনও রাজনীতির মাধ্যমে কাজ করে গেছি। আমার এ দীর্ঘ পথ চলায় আমি সবসময় একটি সমাজকে কাছে পেয়েছি, তারা হলেন সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকরাই তাদের লিখনীর মাধ্যমে আমাকে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। আমি সাংবাদিকদের কাছে চিরঋণী।

সাংবাদিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি প্রেসক্লাব কুলাউড়ায় ১ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন। এ ছাড়াও সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পিআইবির মাধ্যমে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদেরকে সরকারী সহযোগীতার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

এম এম শাহীন তাঁর বক্তব্যে বলেন,আমেরিকার বিলাশবহুল জীবন ত্যাগ করে ৩২ বছর বয়সে দেশে ফিরে এসে কুলাউড়ার মানুষের সুখ-দু:খের সাথী হয়ে কাজ করেছি। এবং ৪৫ বছর থেকে আমি কর্ম দেওয়ার চেষ্টা করছি। কখনও সংবাদপত্র, কখনও সংগঠন, কখনও রাজনীতির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি।

কুলাউড়াবাসীও আমাকে দ্ইুবার এমপি বানিয়েছেন।অনেক বাঘানেতাকে পরাজিত করে আমাকে ভোট দিয়েছেন। সর্বোচ্ছ ভোটও পেয়েছি। রাজনীতিতে আসার মাত্র ৬ বছরের মাথায় মানুষ আমাকে এমপি বানিয়েছেন।

তিনি তার এমপি থাকাকালীন সময়ে কুলাউড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, জরাজীর্ণ শিক্ষাঙ্গনকে ্আধুনিকায়ন করেছি।খেলাধুলায় ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছি। এমন কোন ধর্মী প্রতিষ্টান নেই যেখানে বরাদ্ধ দেই নাই। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে মানুষকে সচেতন করেছি,জাগ্রত করার চেষ্টা করেছি।

তিনি বর্তমান সাংসদকে ইঙ্গিত করে বলেন,মানুষের আমানত নিয়ে গত ২ বছর থেকে কুলাউড়ায় না এসে মানুষের সাথে প্রতারনা করছেন। তাকে ভোট দিয়ে মানুষ এখন অপমানিতবোধ করছেন। তিনি ঢাকায় বিয়েতে যাচ্ছেন,সংসদে যাচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায় যাচেছন কিন্তু কুলাউড়ায় আসছেননা। ১২ জন খলিফা দিয়ে কুলাউড়ার মানুষকে ধোকা দিয়ে চলছেন। ভোট মানুষ আপনাকে দিয়েছে না ঐ ১২ জন খলিফাকে দিয়েছে।

এম এম শাহীন আরও বলেন, যার জম্ম কুলাউড়ায় নেই, যার স্কুল জীবন কুলাউড়ায় নেই তার কুলাউড়ার প্রতি অবজ্ঞা থাকাটাই স্বাভাবিক। বিগত ৩ বছরে এমপির দায়িত্ব কতটুকু পালন করেছে। কার খবর নিয়েছেন প্রশ্ন রাখেন এম এম শাহীন।

এম এম শাহীন বলেন, ৩ বছরে স্তবির হয়ে পড়েছে কুলাউড়ার উন্নয়ন কর্মকান্ড। উন্নয়ন নেই,খেলাধুলা নেই কোন কিছুই নেই। প্রতারনা করে নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়ে এখন মানুষের সাথে প্রতারনা করছেন । অথচ অন্য সংসদীয় আসনে হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্ধ আসছে।

এম এম শাহীন আরও বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে উন্নয়নের মার্কায় যদি ভোটটা দিতেন তাহলে আজ কুলাউড়া অবহেলিত থাকতনা,এরপরও আমাকে ৭৮ হাজার ভোট দিয়েছেন কুলাউড়াবাসী সেজন্য তিনি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুলাউড়া সরকারী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্রাচার্য সজল, লংলা আধুনিক মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতাউর রহমান চন্দন, নবীন চন্দ্র মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন, মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান ছুরুক, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার প্রতিষ্টাতা সভাপতি স্বপন কুমার দেব রতন, বিশিষ্ট সমাজসেবক হাবিবুর রহমান টুটু।

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কবি ও সাহিত্যিক ইব্রাহিম খলিল, জেলা সাংবাদিক ফোরামের সহ-সভাপতি এম মছব্বির আলী, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সিনিয়র সহ-সভাপতি ময়নুল হক পবন, সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মোক্তাদির হোসেন, এম এম শাহীন এর পুত্র রাফিদ শাহিন ও ডেইলি ষ্টারের প্রতিনিধি মিন্টু দেশওয়ারা, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার নির্বাহী সদস্য বিশ্বজিৎ দাস, সাংবাদিক আশীষ কুমার ধর, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন কবির, যুগ্ন সম্পাদক তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম চৌধুরী, আজকের পত্রিকার কুলাউড়া প্রতিনিধি এস আলম সুমন, কালের কন্ঠের প্রতিনিধি মাহফুজ শাকিল, সমকাল প্রতিনিধি সৈয়দ আশফাক তানভীর, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি এইচ ডি রুবেল, প্রিয় কুলাউড়ার সম্পাদক একেএম জাবের, দৈনিক জাগরন প্রতিনিধি এনামুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্টান উপস্থাপনায় ছিলেন প্রেসক্লাব, কুলাউড়ার সাধারন সম্পাদক চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ।

অনুষ্টানের শুরুতে সংবর্ধিত অতিথি এম এম শাহীনকে ফুল দিয়ে বরন করেন জেলা সাংবাদিক ফোরামের সহ সভাপতি এম মছব্বির আলী, প্রেসক্লাব,কুলাউড়ার প্রেসক্লাব,কুলাউড়ার সিনিয়র সহ সভাপতি ময়নুল হক পবন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন কবির ও আমার কুলাউড়ার সাংবাদিক রিমা আক্তার এবং ক্রেষ্ট উপহার দেন প্রেসক্লাব,কুলাউড়ার সভাপতি আজিজুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ।

এদিকে প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সদস্য সদ্য প্রয়াত মরহুম শাকির আহমদ স্মরণে এক মিনিট দাড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।