২ বছর ধরে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) কর্তৃক রেলওয়ের বুকিং সহকারীদের সম্মানির অর্থ পরিশোধ না করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি।

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ শনিবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অবিলম্বে বুকিং সহকারীদের প্রাপ্য সম্মানি দেওয়ার দাবি জানান বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির।

মোঃ মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) কর্তৃক অনলাইনে বিক্রিত টিকেট প্রিন্ট করাসহ কাউন্টারে টিকিট বিক্রির জন্য রেলওয়ে বুকিং সহকারীদের প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে সম্মানি দেওয়ার কথা থাকলেও গত দুই বছর যাবত সারাদেশের প্রায় ৪৫০ জন বুকিং সহকারীকে তারা কোন অর্থ দিচ্ছে না। সাধারণত সিএনএস কর্তৃক প্রতিমাসে ৩ হাজার টিকেট বিক্রির জন্য বুকিং সহকারীদের ১ হাজার টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে। রেলওয়েতে বুকিং সহকারীরা স্বল্প বেতনে চাকুরীরত। অথচ তাদের ২ বছরে ২৪ হাজার টাকা করে ৪৫০ জন বুকিং সহকারীর ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা সিএনএস কর্তৃপক্ষ আটকে রেখেছে। কিন্তু তারা ঠিকই টিকেট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে।”

তিনি আরো বলেন, “বুকিং সহকারীদের অর্থ না পাওয়ার ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের নিরবতা আমাদেরকে হতাশ করেছে। বুকিং সহকারীদের দায়িত্ব পালনকালে পান থেকে চুন খসলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা স্বরূপ বদলী, সাময়িক বরখাস্ত করা সহ বিভিন্ন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে একটি সিন্ডিকেট কথায় কথায় তাদেরকে টিকেট-কালোবাজারী ও অসাধু চক্রের উপাধি দিয়ে থাকলেও, সারাদেশের স্টেশনের সামনে বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে অনলাইনের টিকেট কাউন্টারে রূপান্তরিত হয়েছে। ৫০০ টাকার টিকেট ১২০০ টাকায় বিক্রি করলেও তাদেরকে কেউ টিকেট কালোবাজারী উপাধি দেওয়ার বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যায় না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও ডিজিটাল কালোবাজারীদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। সব দোষই যেন রেল কর্মচারীদের।”

বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি অবিলম্বে বুকিং সহকারীদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধে সিএনএস কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। – বিজ্ঞপ্তি