আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : অবশেষে ২৫ বছর পর স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের দুই উপজেলার ৫ ইউনিয়নবাসীর। ঘিওর উপজেলার কুস্তা বন্দর এলাকা ছিল এই ৫ ইউনিয়নের ৭৭টি গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রবেশদ্বার। ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ধলেশ্বরী নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায় কুস্তা- নারচী সড়ক। ভাঙন কবলিত এই রাস্তা মেরামতের কাজ আজ বুধবার বিকেলে উদ্ধোধন করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে কাবিখা ২য় পর্যায়ের প্রকল্প, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে যৌথ উদ্যোগে ২৫৬ মিটার রাস্তার কাজের উদ্ধোধন করেন ঘিওর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো: অহিদুল ইসলাম টুটুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুল মতীন মুসা, ইউপি সদস্য মোঃ মোশারফ হোসেন মুসা, ৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রহমান প্রমুখ।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ঘিওর-দৌলতপুর সড়কের কুস্তা এলাকার বহু বাড়ি ঘরসহ ফসলী জমি সম্পূর্ন ধলেশ্বরী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। সেই সাথে ভেঙে যায় প্রবেশদ্বারের দেড় কিলোমিটার রাস্তাও। এরপর ২০১৪ সনের বন্যায় এই স্থানের আরো ৫শ মিটার সড়ক সম্পূর্ণ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর পর থেকেই সব ধরনের যানবাহন দুই পাড়ে থাকে। এই ভাঙ্গা স্থান পায়ে হেটে যানবাহনে চড়ে দুই উপজেলার মানুষদের যাতায়াত করতে হয়।

ফলে দীর্ঘদিন যাবৎ ঘিওর উপজেলার ঘিওর সদর ও পয়লা ইউনিয়ন এবং দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর, খলসি, চরকাটারি ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের মানুষজনের উপজেলা, জেলা ও ঢাকার সড়কের উঠার একমাত্র সড়ক ছিল এটি। বন্ধ থাকায় এসব এলাকার মানুষজনকে বিকল্প পথে ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার গুরে যাতায়াত করতে হতো। ফলে হাজার হাজার পথচারীদের সীমাহীন দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কে কৃষি পণ্য হাট বাজারে নিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় সাংসদ এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ২০১৭ সালে ৯০ লক্ষ টাকার কাজ করেছিলেন। এরপর ধলেশ্বরীর ভাঙন ঠেকাতে দুই বছর আগে উপজেলার কুস্তা-নারচী এলাকার ১ কোটি ৭৮ লাখ ১৮ হাজার টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হতে না হতেই বর্ষার পানির তোড়ে নদীর গতিপথ স্বাভাবিক রাখার বাঁধে ধ্বস নামে। এমনকি নদীপাড়ে ভাঙন শুরু হয়। পরে ফেলা হয় জিও ব্যাগ।

সরজমিন দেখা যায় চলছে সড়ক তৈরির প্রাথমিক কর্মযজ্ঞ। দীর্ঘ দুই যুগ পর পরিবর্তনের এই ধারায় মহা খুশি হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয়দের মতে, চলমান এ কাজ সম্পূর্ণ হলে ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার যোগাযোগ খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে।

খলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, দীর্ঘদিন পরে ভাঙ্গন রোধকল্পে এই রাস্তাটি মেরামত করা হচ্ছে। দুই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের হাজার হাজার লোকজনের উপকার হবে।

এ ব্যাপারে ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তাটি ছিল ৭৭ টি গ্রামের জনগণের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণের কাজ শুরু করতে পেরে আমি ভীষণ খুশি।