খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার খাদ্যগুদামে ২০০ মেট্রিক টন চালের ঘাটতি পেয়ে উপজেলা খাদ্য গুদাম সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ৷ ঘটনার পর থেকে গুদামটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন ৷ ধারণা করা হচ্ছে তিনি প্রায় কোটি টাকার চাল আত্মসাত করা হয়েছে৷

গুদামের নথিপত্র যাচাই করে গত বুধবার বিকালে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল আলম৷

এ সময় তিনি ছাড়াও ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান, ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তারিকুজ্জামান, মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইসমাইল হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ৷

এ ঘটনায় মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তারিকুজ্জামান জানান৷

এদিকে ঘটনার পর থেকে খাদ্য গুদামটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন৷

অভিযোগে জানা গেছে, গত চার মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি কার্ডের চাল এবং ডিলারদের ১৫ টাকা কার্ডের চাল সরবরাহ বন্ধ করে দেন সানোয়ার হোসেন৷

গত বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাতে সানোয়ার হোসেনের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউপির চেয়ারম্যান আজাদ খান৷

চেয়ারম্যান আজাদ খান জানান, সানোয়ার হোসেন গত চার মাস ধরে তার ইউনিয়নের প্রায় ৮০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করেন নাই ৷ একইভাবে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ২০০ মেট্রিক টন ভিজিডি কার্ডের চাল তিনি আত্মসাত করেছেন৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডিলার বলেন, উপজেলার সাতজন ডিলারের মধ্যে একজনের সঙ্গে আঁতাত করে সানোয়ার হোসেন প্রায় কোটি টাকার চাল আত্মসাত করে লুকিয়ে আছেন৷

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুদামের নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে সরকারি চাল ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়ে৷

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক প্রশিক্ষণে দেশের বাইরে থাকায় দায়িত্ব পালন করছেন ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তারিকুজ্জামান৷

তিনি বলেন, বিষয়টি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার মতো৷ গুদামের নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে আমরা অনেক গড়মিল পাই৷ যাচাইয়ের এক পর্যায়ে বড় অংকের চাল আত্মসাতের ঘটনা বেরিয়ে আসে৷

মো. তারিকুজ্জামান বলেন, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে ৷ প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না৷

চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল আলম বলেন, আপাতত গুদামটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে ৷ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

খাদ্য গুদাম সিলগালা করার ব্যাপারে এখনো কোনো চিঠি পাননি বলে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা কবির ত্রপা জানান৷

তবে বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর থেকে গুদামটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনকে পাওয়া যাচ্ছে না৷ গত কয়েক দিন কয়েক দফায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং গুদামে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি ৷ তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি৷ বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে একবার ফোন রিসিভ করলেও নিজের অসুস্থতার কথা বলে কল কেটে দেন৷