আবু বাককার সুজন, বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : চাকরী ছেড়ে দেননি। চাকরি ছাড়ার জন্য কোনো ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষরও করেননি। তবুও নাম মুছে গেছে এমপিও থেকে। ১৫ বছর যাবৎ বেতন ভাতা পাচ্ছেন না তিনি। এ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটছে তাঁর।

এ গল্প রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের এক শিক্ষকের। তাঁর নাম মিজানুর রহমান মিজান। কম্পিউটার প্রদর্শক পদে চাকরী করতেন তিনি। ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা পেয়েছেন তিনি।

কিন্তু স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন মর্মে ভূয়া রেজুলেশন ও রিজাইনপত্রে (ইস্তফা) জাল স্বাক্ষর দেখিয়ে এমপিও তালিকা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

এই ঘটনায় কম্পিউটার প্রদর্শক মিজানুর রহমান হাইকোটে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাহপরিচালক বরাবরেও একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০/১২/২০০২ইং তারিখে মিজানুর রহমান পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে কম্পিউটার প্রদর্শক পদে নিয়োগ পান।

নিয়োগ প্রাপ্ত মিজানুর রহমান ২০০৪ সালে এমপিও ভূক্ত হন এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাঁর বেতন ভাতা চালু ছিলো। সেই সময় কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে কম্পিউটার প্রদর্শক মিজানুর রহমান স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন মর্মে ভূয়া রেজুলেশন তৈরি করে এবং রিজাইনপত্রে (ইস্তফা) জাল স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাহপরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়।

এর প্রেক্ষিতে ২০০৬ সাল থেকে তাঁর বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং ২০১৬ সালে মিজানুর রহমানের নাম এমপিও তালিকা থেকেও বাদ দেয়া হয়। এ অবস্থায় দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ বেতন ভাতা না পাওয়ায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রউফ মন্ডল বলেন, বিষয়টি দু:খজনক। তবে মিজানুর রহমানকে চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয় মহামান্য হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক কারিকুলামকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলেন আদেশ দেয়া হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের পক্ষে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনন্সিটিটিউটের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ মল্লিক বলেন- হাইকোটের আদেশের বিষয়টি নিষ্পত্তিকরণের জন্য গত ৫ অক্টোবর কলেজে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আগামী দুই/এক দিনের মধ্যে এর প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।