শেখ ফরিদ, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) : কৃষ্ণচূড়ার রঙ হারিয়ে দেবীগঞ্জ শহর যেন বর্ণহীন হয়ে পড়েছে। অথচ গত এক দশক ধরে রাস্তার দুই ধারে শত শত কৃষ্ণচূড়ার গাছে ফুলের সমারোহ রঙ ছড়িয়ে শহরকে করে তুলতো বর্ণময়। গ্রীষ্মেও প্রচণ্ড খরতাপে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের পাশাপাশি এসব গাছ দিয়ে আসছিল ক্লান্ত দেহে ছায়া আর মনে প্রশান্তির পরশ।

দেবীগঞ্জের শস্যরাজি, দেবী চৌধুরী রানীর দাপট, ভুপ বাহাদুরের রাজত্ব দেবীগঞ্জের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ধরে রাখার জন্য যথেষ্ঠ ছিল না। এ শহরের পরিচিতি ছিল দুস্প্রাপ্য ফুলের শহর, করতোয়া নদীর সুস্বাদু বইরালী মাছের খ্যাতি। জীবনের জটিলতায় শহরে ফুলের বাগান গেছে কমে।

কৃষ্ণচূড়ার পাশাপাশি কাঞ্চন, সোনালু ও কদম ফুল করেছে শহরকে সুশোভিত ও সুরভিত। এ গাছগুলোর প্রকৃতিগতভাবে ছিল বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বসন্তে কাঞ্চন, গ্রীষ্মে কৃষ্ণচুড়া-সোনালু আর বর্ষায় কদম এ ছিল ঋতু ভিত্তিক গাছের সর্ম্পক। গ্রীষ্মের তাপদাহে গাছের ছায়া রাস্তার দুই ধারে থাকা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে স্বস্তি এনে দিয়েছিল। আর এর ছায়ায় বসেছে চায়ের দোকান, পিয়াজু-বেগুনীর দোকান আর সাইকেল গ্যারেজ। সময়ের নতুন চাহিদার সাথে এ গাছগুলোর বিলুপ্ত ঘটেছে।

দেবীগঞ্জ এন এন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের পাকা রাস্তায় বেঁচে যাওয়া দু’টি গাছ এখনও রঙ ছড়িয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের কৃঞ্চচূড়ার রঙ এখন হয়েছে বিবর্ণ। এখন কৃঞ্চচূড়া নেই, নেই রঙের বর্ণচ্ছটা।