ফাইল ছবি

আবু বাককার সুজন, বাগমারা (রাজশাহী) : রক্তাক্ত ও আতংকিত জনপদ খ্যাত রাজশাহীর বাগমারার বিভিন্ন ইউপিতে সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পক্ষের লোকজনের অব্যাহত হামলা, ভাংচুর, মারপিট, পোস্টার লাগাতে বাঁধা দেয়া, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দেয়াসহ বিভিন্নভাবে বাঁধা দেয়ার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এতোদিন ঠিকমত নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে নামতে পারছিলেন না।

অবশেষে সুষ্ঠু পরিবেশে বাগমারায় ভোট গ্রহণের লক্ষে প্রসাশন তৎপর হওয়ায় বিভিন্ন ইউপিতে ভালো অবস্থানে থাকা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সব ধরণের বাঁধা ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে শেষ মূহুর্তে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। ফলে পুরো উপজেলা জুড়ে নৌকা প্রতীকের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পদচারনায় বাগমারার জনপদ এখন সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণায়।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক সুফিয়ান বলেছেন, এই উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে আগামী বুধবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সব ভোটারা যেনো নির্ভয়ে ভোট দিতে কেন্দ্র যেতে পারে এবং সকল প্রার্থীরা যেনো নির্বাচনী আচরণ বিধিমেনে নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে পারে প্রসাশন সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছে।

কোনো প্রার্থীর প্রচারনায় কেউ যোনো কোনো প্রকার বাঁধা দিতে না পারে সে জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছে। ভোটারাও যেনো নির্ভয়ে কেন্দ্র গিয়ে তাদের পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে সেই ব্যাপরেও জনগণকে অভয় দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচারনা চালানো হচ্ছে। ইউএনও আরো বলেন, কয়েক দিন আগে গোবিন্দপাড়া, নরদাশ ও বাসুপাড়া ইউপিতে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করে স্থাপন করা নৌকা প্রতীক ও নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস অপসারণ করা হয়েছে।

এদিকে গোবিন্দপাড়া, নরদাশ ও বাসুপাড়া ইউপিতে নৌকা প্রতীক ও নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন ইউপিতে নৌকা প্রতীকের পক্ষে আওয়ামী লীগের লোকজন বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।

রোববার বাগমারার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচনের তফশিল ঘোষনার পর থেকেই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেন। তবে প্রতীক পাওয়ার পর থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু শুরুতেই বিভিন্ন ইউপিতে সরকার দলীয় প্রার্থীদের পক্ষের লোকজনের হামলা, ভাংচুর, মারপিট, পোস্টার লাগাতে বাঁধা দেয়া, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকিসহ বিভিন্নভাবে বাঁধার মুখে পড়েন। এ কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রথম দিকে নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে নামতে পারছিলেন না। অবশেষে প্রসাশন তৎপর হওয়ায় বিভিন্ন ইউপিতে ভালো অবস্থানে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সব ধরণের বাঁধা ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে শেষ মূহুর্তে মাঠে নেমেছেন নির্বাচনী প্রচারণায়।

তবে গোয়ালকান্দি ইউপিতে এখনো নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে অভিযোগ করেনছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল মজিদ খাঁন। নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর সরকারের পক্ষের লোকজন নির্বাচনী প্রচারণায় দফায় দফায় হামলা চালিয়ে এ পর্যন্ত তাঁর এবং তাঁর সমর্থকদের মোট ১৫ টি মোটরসাইকেল ও প্রচারনা কাজে ব্যবহৃত দুই সেট মাইক ও ভ্যান ভাংচুর করেছে।

এ ছাড়া তাঁর ৭ জন সমর্থককে হাঁতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বাগমারা থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়া হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়েছে এবং ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারা প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন।

এদিকে কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হকের দু’টি নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা কেরছেন ওই ইউপির সাধারন ভোটাররা। অপরদিকে ওই ইউপির আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আয়েন উদ্দিন এবং তাঁর ছোট ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মাষ্টার ও দলের নেতা-কর্র্মিদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হক মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাড়িয়া ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকবর আলী ও রেজাউল ইসলাম, ঝিকরা ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, গনিপুর ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান রঞ্জু, আউচপাড়া ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ডি.এম সাফিকুল ইসলাম সাফি, নরদাশ ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মাষ্টার মোশারফ হোসেন এবং বড়বিহানালী ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মিলন অভিযোগ করে বলেন- নির্বাচনী প্রচারনাকালে তাঁদেরকে প্রতিনিয়তই নৌকা প্রতীকের পক্ষের লোকজন দ্বারা হামলা, ভাংচুর ও মারপিটসহ বিভিন্নভাবে বাঁধার শিকার হতে হচ্ছে।

তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেরিতে হলেও প্রসাশন তৎপর হওয়ায় বিজয়ের আশায় অবশেষে তাঁরাও এখন সব ধরণের বাঁধা, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তাঁদের কর্মি-সমর্থক ও অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছেন নির্বাচনী প্রচারনায়। নির্বাচনী প্রচারনাকালে তাঁদের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন পাওয়ার প্রেক্ষিতে এক প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা বলেন- সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট হলে এবং সবাই নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলে বিজয়ের ব্যাপারে তাঁরা শতভাগ নিশ্চিত। এ জন্য তাঁরা প্রসাশনের সার্বিক সহযোগীতা ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন।