খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : হেফাজতে ইসলামের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র চলছে।

মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ এবং শিক্ষকদের পক্ষে একটি লিখিত বিবৃতিতে এ রকম ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।

লিখিত বিবৃতিটি পাঠ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক ড. নুরুল আফসার। সেখানে বলা হয়, “দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠার ১২০ বছর পর কিছু আদর্শচ্যুত ও স্বার্থান্বেষী দুষ্কৃতিকারী দেশের ভেতরে ও দেশের বাইরে উম্মুল মাদারেসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে।”

এই বিবৃতি দেয়া হলো এমন সময়ে, যখন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে সরকারের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

সম্প্রতি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে চরম সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল হেফাজত। এরপর সরকার সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার অভিযান শুরু করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক সহিংসতা এবং প্রাণহানির ঘটনার পর গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে হেফাজত চাপে পড়েছে।

কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম দলের উদ্ভব হয়েছে এই হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে। এই মাদ্রাসার পরিচালক জুনাইদ বাবুনগরী বর্তমানে হেফাজতে ইসলামের আমির।

তবে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার অভিযান প্রসঙ্গে হাটহাজারী এই মাদ্রাসার বিবৃতিতে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।

লিখিত বিবৃতিতে জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বলা হয়, “অত্র অঞ্চলের ইমাম, খতিব, এবং সর্বস্তরের তৌহিদি জনতার কাছে আমাদের বিশেষ আহবান থাকবে, আল্লাহ না করুন, যখনি আপনারা শুনবেন আপনাদের প্রিয় এই উম্মুল মাদারেস দুষ্কৃতিকারীদের কোন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে, তখনি আপনারা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে উম্মুল মাদারেসের সহযোগিতায় তাৎক্ষনিকভাবে এগিয়ে আসবেন।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “অপরদিকে দুষ্কৃতিকারীদের প্রতিও আমাদের সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা, ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন, অন্যথায় আল্লাহর ইচ্ছায় ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত হয়ে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।”

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বর্তমানে বন্ধ থাকলেও কওমি মাদ্রাসায় দান করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

কিন্তু কারা ষড়যন্ত্র করছে, কিসের ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এই প্রসঙ্গে হাটহাজারীর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সরাসরি কিছু বলতে চাননি।

মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোঃ ইয়াহহিয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমাদের নির্ধারিত কোন ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে না। নির্ধারিত থাকলে তো তা বলতো। তবে মাদ্রাসা পরিচালনার মধ্যে কেউ কেউ বলতেছে ভুল-ত্রুটি হইতেছে, এ রকম বলতেছে।”

গত বছর হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পরদিনই মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটিতে জুনাইদ আহমেদ বাবুনগরীকে ফিরিয়ে আনা হয়।

তার আগে হেফাজতের আমির আহমদ শফী ও মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। তার জের ধরে গত বছরের ১৭ই জুন হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বিক্ষোভের মুখে আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরবর্তীতে শুরা কমিটির বৈঠকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন আহমদ শফী।

আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ১২ই এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। – বিবিসি