হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার) : উখিয়ার বহুল আলোচিত হলদিয়া পালং ৫ নং ওয়ার্ড নলবনিয়া কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে ভোট শেষ হওয়া পযর্ন্ত কোন প্রকার সংঘর্ষ, হামলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুশি।

তবে ভোট গণনার সময় বিলম্বিত হতে দেখে এবং ফলাফল পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কায় ভোটাররা বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এতে নৌকা ও ঘোড়ার সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ ঘোড়া অন্য পক্ষ নৌকা বিজয়ের শ্লোগান দিতে থাকে।

এ সময় নৌকার সমর্থক রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেট সৃষ্টির চেষ্টা করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে চাইলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তখনো ভোট গণনা শেষ হয়নি। অবশেষে ফলাফল ঘোষণা হলে জনগণ শান্ত হয়।

ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক ইমরুল কায়েস সর্বমোট ১,২২৯ ভোটের ব্যবধানে নৌকা প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ আলমকে হারিয়ে বিজয় লাভ করেন। ৫ নং ওয়ার্ডের নলবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পুননির্বাচনে ঘোড়া পেয়েছেন ১৬৯০ ভোট আর নৌকা পেয়েছেন ৯৩১ ভোট। এর আগে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘোড়া এগিয়ে ছিলেন ৪৭০ ভোটে। ফলে ১২২৯ ভোটের ব্যবধানে ঘোড়া প্রতীকের সাংবাদিক ইমরুল কায়েস জয় লাভ করেন।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল দেয়ার কাজ সম্পন্ন করেছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, ভোট কেন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগীতায় একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ আলম বলেন, ফলাফল যাই হোক মেনে নেব।

বিজয়ী প্রার্থী ইমরুল কায়েস বলেন, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বহুল আলোচিত হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের পুননির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ আলম ও ঘোড়া প্রতীকের ইমরুল কায়েস এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।

১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫ নং ওয়ার্ডে ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ফলে নির্বাচন স্থগিত হয়। ৩০ নভেম্বর স্থগিত কেন্দ্রে পুননির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উভয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে বাধা ও হুমকি দেয়ার ফলে এ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, গতবার ভোট ডাকাতির সময় আমরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেছি। পুনরায় ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটলে প্রাণ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে না কেউ। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সাধারণ সচেতন ভোটাররা।

হলদিয়া পালং এলাকার ভোটার জাফর আলম বলেন, নৌকা প্রতিকের প্রার্থী শাহ আলম ৫ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভোটে নির্বাচিত হননি। মন্ত্রী পরিষদের সাবেক সচিব শফিউল আলমের ছোট ভাই হিসেবে তিনি প্রভাব ও ক্ষমতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি ভোটে নির্বাচিত হতেন। কিন্তু চেয়ারম্যান ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত এনে বিতর্কিত কথা বলা এবং তার স্ত্রী প্রচারণার সময়ে ভোটারদের সাথে অশোভন আচরণের ফলে তিনি এখন চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় পড়েছেন এবং পরাজিত হয়েছেন।

২০১৬ সালে তিনি আমাদের ভোটাধিকার হরণ করেছেন। তাই এবার আর সেই সুযোগ তিনি পাবেন না। গতবার যেনতেনভাবে তিনি তার ফলাফল হাতিয়ে নিতে সক্ষম হন। গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও হলদিয়া ৫ নং ওয়ার্ডে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যালট বক্স ছিনতাই করে ভোট বানচালের অপচেষ্টা চালানো হয়।

এবার স্থানীয় ভোটার ও উপজেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে দুর্বৃত্তরা ভোট ডাকাতি করতে ব্যর্থ হয়।
৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের নির্বাচনে আবারো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফলাফল পাল্টে দেয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় ভোটার ও এলাকাবাসী ফলাফল দিতে বিলম্ব দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। চৌকস অফিসারদের তাৎক্ষনিক ঘটনা নিয়ন্ত্রনে নিতে বেক পেতে হয়। আম জনতার চাওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এ জন্যে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে।

ভোটার জয়নাল আবেদিন বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহ আলমের স্ত্রীসহ মহিলা টিম ৫ নং কেন্দ্র এলাকায় ভোটের প্রচারণা করতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যান। এত অনাখাংকিত ঘটনা ঘটে। ভোটারদের গায়ের ওপর হাত তোলেন স্বয়ং চেয়ারম্যানের স্ত্রী। মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এ ঘটনা। তাই সাধারণ ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছেন।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের ভোট কমেছে বলে জানালেন জয়নাল আবেদিনসহ অধিকাংশ ভোটার।

স্থানীয় হেলাল উদ্দিন বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জোরপূর্বক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালের ন্যায় আমাদের ভোটাধিকার হরণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হলে তার জবাব সাধারণ ভোটাররা এবার ভালভাবেই বুঝিয়ে দিতেন। এবার প্রশাসনের আন্তরিকতায় অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির ফলে জনগণের একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশায় পূরণ হয়েছে।

হলদিয়া পাতাবাড়ির ভোটার লিয়াকত, শফিকুর ও সব্বির আহমদ বলেন, হলদিয়া ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ঘাটি। এখানে নৌকার ভোটার বেশি। বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আলম এলাকায় যথেষ্ট উন্নয়ন করেছেন। এরপরও স্থানীয় তৃণমূলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার নানাবিধ কর্মকান্ডে কারণে বিরোধিতা করেছেন। ফলে ফলাফল যা হবার হয়েছে।

বহুল আলোচিত নলবনিয়া কেন্দ্রে ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদান করতে পেরেছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের সার্বিক সুদৃষ্টি থাকায় এলাকাবাসী তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট হওয়ায় ইমরুল কায়েস (ঘোড়া প্রতীক) বিপুল ভোটে বিজয়ী।