খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : চলতি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে আজ শুক্রবার।

দুই দলই নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে গেছে। এখন পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ পাঁচ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছয় নম্বরে আছে।

এই তৃতীয় ম্যাচে যে দলই হারবে সেই দল টুর্নামেন্টের সমীকরণের বাইরে চলে যাবে, যে দল জিতবে কোনও মতে নিজেদের আশা টিকিয়ে রাখবে এমন একটা পরিস্থিতিতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।

বাংলাদেশ দল এখন একটা ভঙ্গুর অবস্থানে আছে, পুরো দলটার সাথে তুলনা হতে পারে তাসের ঘরের, যা সামান্য চাপেই ভেঙে পড়তে পারে।

অনুশীলনের আগে বাংলাদেশ দলের মধ্যে খেলা নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয়নি। তবে ইতিবাচকতা খুঁজে পাওয়াই কঠিন বলছেন ক্রিকেট বোর্ডের একজন কর্মকর্তা।

যেই আশা নিয়ে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিল সেটা হতাশায় রূপ নিয়েছে এবং দলের ক্রিকেটারদের চেহারায় সেটা স্পষ্ট।

ম্যাচের আগে নাসুম বলেছেন, “সবাই চেষ্টা করছি, কিন্তু কিছু হচ্ছে না।”

বিকেএসপির ক্রিকেট কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলছেন, “যখনই মাঠে নামছে সব নেতিবাচকতা বাংলাদেশ দলকে ঘিরে ধরছে।”

তিনি মনে করেন এটা একদিনে শেষ হওয়ার না, “অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশ দল নিয়ে নাড়াচাড়া হচ্ছে। চার-পাঁচ বছর আগে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতো বাংলাদেশ। এখন সবনিম্ম পয়েন্টে আছে বাংলাদেশ।”

প্রতীকী দৃশ্য হতে পারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ যেভাবে নিজেই আফিফ হোসেনকে রানের জন্য ডাক দিয়ে নিজের অবস্থানে দাঁড়িয়ে থেকে রান আউট করানোর পর বসে পড়লেন, এটাই পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতিচ্ছবি। একটা অবিশ্বাসের ছাপ চারিদিকে।

ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সাথিরা জাকির জেসি মনে করেন, দলের মধ্যে দলীয় ঐক্য নেই একেবারেই।

তিনি বলেন, “এটা স্পষ্ট। সবাই হতাশ। সংবাদ সম্মেলন, মাঠের আচরণে মনে হচ্ছে দলটা লড়াই করতে পারছে না।”

সাকিব, রিয়াদ, মুশফিক- তিনজন সিনিয়র ক্রিকেটারই সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

নাজমুল আবেদীন ফাহিম মনে করেন, “দল নিয়ে ক্রিকেটাররা ভাবছে না, এখন তারা ভাবছে আত্মসম্মান রাখার জায়গাটা নিয়ে। সবাই এখন সবার সামনে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে খেলছে। একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে যেখান থেকে ভালো খেলা অসম্ভব।”

কিছুই যেন হচ্ছে না, কিছুতেই কিছু কাজে দিচ্ছে না। নাসুম আহমেদ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর প্রেস কনফারেন্সে এসেছিলেন, বারবার একটা লাইন বলেছেন তিনি, “আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু কিছু হচ্ছে না।”

নাসুম আসলেই চেষ্টা করেছেন, জস বাটলারকে আউট করেছেন তিনি, আদিল রশিদের বলে দুটি ছক্কা মেরে বাংলাদেশের স্কোরকে ১২০ পার করিয়েছেন, ৯টি বল খেলে করেছেন ১৯ রান।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার তিনিই ছিলেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও সাইফুদ্দিনের ২২ রান হজম করা ওভারের পর নাসুম ১৯তম ওভারে বল হাতে নেন, খেলার জন্য স্কোরকার্ডে রান বেশি ছিল না, কিন্তু নাসুম চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

যেই চেষ্টার ছাপ দেখা যায়নি সাকিব, মুশফিক, রিয়াদের শারীরিক ভাষায়। তাদের দেখে মনে হয়েছে তারা হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

আর নাজমুল হাসান ফাহিমের মতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল একটা ভুয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়েছে যার ফল ভোগ করছে তরুণ বোলাররা বিশেষত স্পিনাররা।

যেমন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা প্রথম ছয় ওভারেই ম্যাচে থাকার মতো পুঁজি গড়ে নিয়েছে যা তাদের পুরো ম্যাচে রান রেট বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।

আগের ম্যাচে সংবাদ সম্মেলনে নাসুমকে পাঠানোর পর অনেকেই ব্যাপারটা ভালোভাবে নেননি, বিশ্বকাপের মতো জায়গায় এমন শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের সবচেয়ে তরুণ ক্রিকেটারকে এভাবে পাঠানো কতোটা সমীচীন এমন প্রশ্নও উঠেছে।

কিন্তু নাসুমই একটা অকপট সত্য বলেছেন, যে বাংলাদেশ প্রথম ছয় ওভারে রান করতে পারে না। উল্টো উইকেট হারিয়ে আসে। যেই চাপ পুরোটা ম্যাচ জুড়ে থাকে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ১৭১ রান তুলেছিল, যেটা কম মনে হয়েছে লিটন দাসের দুটো ক্যাচ ছাড়া এবং সাইফুদ্দিনের ২২ রানে হজম করা ওভারের পর।

কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটাও ছিল না, বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানরা ১০০ রানের মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর বোলাররা সবাই প্রতি ওভারে আট থেকে দশ রান দিয়ে ম্যাচ শেষ করেন।

একদল টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), আরেকদল পুরো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মূলপর্বে একটি মাত্র ম্যাচ জিতেছে (বাংলাদেশ)।

বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ২০০৭ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বে নিজেদের একমাত্র জয় পেয়েছিল।