কক্সবাজারে জীবন যাত্রার ব্যয় বেশি

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজার জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের আরও অর্ধশত সদস্য এ জেলায় থাকতে আগ্রহি নন। কক্সবাজার জেলা থেকে স্বেচ্ছায় বদলি হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পুলিশের এসব সদস্যরা। সম্প্রতি ১১০ পুলিশ কনস্টেবল অন্যত্র বদলির পর আরও অর্ধশত পুলিশ সদস্য স্বেচ্ছায় বদলির জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, নানা কারণে দূর দূরান্ত জেলা থেকে কক্সবাজারে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা এখানে দায়িত্ব পালন করতে অনাগ্রহী। নিজ জেলা থেকে অনেক বেশি দূরত্ব এবং কক্সবাজারে জীবন যাত্রার ব্যয় বেশি হওয়ায় এ অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফলে স্বেচ্ছায় বদলি হতে আবেদন করছেন তারা। এর মধ্যে যারা ২ বছরের বেশি সময় ধরে কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন এরূপ ১১০ কনস্টেবলকে সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে। এরপর ১০৩ জন স্বেচ্ছায় বদলির জন্য আবেদন করেন। অপর ৭ জন ছিলেন নিয়মাতান্ত্রিক বদলির অংশ। এখন আরও অর্ধ শত আবেদন জমা রয়েছে যারা স্বেচ্ছায় বদলি হতে আগ্রহি।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, কক্সবাজারের টেকনাফে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা পুলিশে সকল সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়। একই সময় নতুন করে পদায়ন করা হয় পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৫০০ সদস্য।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম জানান, এখানে দায়িত্ব পালনকারি বেশির ভাগ পুলিশ সদস্যদের বাড়ী দূরের জেলায়। যারা ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ী পৌঁছতে এবং কর্মস্থলে ফিরতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগে। এতে আসা-যাওয়ার খরচও ব্যয়বহুল। এসব পুলিশ সদস্য কক্সবাজারের স্থানীয় ভাষা ঠিকভাবে রপ্ত করতে না পারায় দায়িত্ব পালনে ভোগান্তিতে পড়ে। যার কারণে স্বেচ্ছায় বদলি হওয়ার আবেদন দিয়েছেন তারা। এসব আবেদন পর্যালোচনা করে ১০৩ সহ ১১০ পুলিশ সদস্যকে বদলি করতে সুপারিশ করা হলে সম্প্রতি তাদের বদলি করা হয়। অপর আবেদনগুলিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পুলিশের বিধিমালার কথা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার জানান, নিয়ম মতে বছরে ২০ দিন ছুটি প্রদানের নিয়ম রয়েছে। যে ছুটিগুলো ৫ দিন করে চারভাগে উপভোগ করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে ৫ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ীতে আসা-যাওয়া করতে তিন থেকে চারদিন সময় চলে গেলে একজন পুলিশ কয়দিন বাড়ীতে থাকতে পারে। পরিবারের জরুরী প্রয়োজনের সময়েও তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এসব সদস্যরা নিজ জেলার আসে পাশে বদলি হয়ে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহি হওয়ায় স্বেচ্ছায় বদলি হতে তৎপর হয়ে উঠেছে।