মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুর চেম্বার সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী টিটু বলেছেন, ‘চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশের ১ কোটি ১৪ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো মহাপরিকল্পনা নেই।

’করোনাভাইরাস মহামারিতে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো মহাপরিকল্পনা না থাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে রংপুর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী টিটু এ হতাশা শনিবার ৫জুন এক প্রেস বার্তায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

রংপুর চেম্বার সভাপতি বলেন, ‘চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশের ১ কোটি ১৪ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো মহাপরিকল্পনা নেই। সংশোধিত বাজেটে বিষয়টি পুনর্ব বেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।

‘করোনাকালীন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন গরিবদের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। করোনায় গরিব মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জীবন ও জীবিকা হুমকিতে পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়েছেন, অনেকের আয় কমেছে। সংশোধিত বাজেটে করোনায় নতুন গরিবদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার অনুরোধ করছি।’ বাজেটে কৃষিকে গুরুত্ব দেয়ায় খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।

মোস্তফা চৌধুরী টিটু বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিতে গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উপকরণে অধিক বরাদ্দ থাকা উচিত। রংপুর বিভাগের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। সংশোধিত বাজেটে রংপুর বিভাগে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প জোন স্থাপনের ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, বাজেটে করোনায় ক্ষতি গ্রস্থ শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি কাটাতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির খাতে বরাদ্দ, প্রতি জেলায় একটি করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, ই-লার্নিং খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে রংপুর চেম্বার। ‘শিক্ষা খাতের বরাদ্দ হলো জাতি গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ। এখানে যে যৎসামান্য বরাদ্দ দেয়া হয়, তাতে শিক্ষার মান বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা তো দূরের কথা, দেশীয় মানটাও ধরে রাখা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য নিরসন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রংপুর বিভাগের জন্য পোশাক ও কৃষিভিত্তিক শিল্প জোন গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে রংপুর বিভাগের আট জেলার উন্নয়নে সংশোধিত বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন। ‘বাজেটে এ বিভাগের শিল্পায়নে আলাদা ঋণ, কর ও ভ্যাটনীতি প্রণয়ন, রংপুরে স্পেশাল ইকোনমিক জোন ও আইটি পার্ক স্থাপন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে ‘নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি’ গঠনের মতো বিষয়গুলো অন্তরর্ভুক্ত থাকা উচিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বাজেটে রংপুর বিভাগের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের জন্য তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়নি। তাই রংপুর অঞ্চলের দারিদ্র্য নিরসন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চেম্বারের প্রস্তাবগুলো সংশোধিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই। ’২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাাবিত বাজেটে শিল্প ও সেবা খাতকে গতিশীল করতে প্রণোদনা প্যাকেজের যথাযথ বাস্তবায়নের উদ্যোগ, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট উদ্যোক্তার জন্য বিশেষ তহবিল ঘোষণা এবং বেসরকারি খাতে অধিক বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণ সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে রংপুর চেম্বার।

ব্যবসায়ী নেতা টিটু বলেন, ‘শুধু কর বা ভ্যাট কমালেই যে বিনিয়োগ বাড়বে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ব্যবসা সহজীকরণ সূচক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গ্যাস-বিদ্যুতের সহজলভ্যতার বিষয়গুলো মেটাতে না পারলে বিনিয়োগ কখনোই বাড়বে না। এ ছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকে সহায়ক নীতি ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘রপ্তানিমুখী ও বৃহৎ শিল্প প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেলেও অনানুষ্ঠানিক খাত, কুটির, অতিক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত ও কৃষি খাত আজও উপেক্ষিত। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ব্যবসায় পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ‘সামান্য ছাড় দিয়ে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ আর শুধু অর্থ বরাদ্দ রাখলেই হবে না, বরাদ্দকৃত অর্থ যেন সুষ্ঠু ও সুষমভাবে বণ্টন হয়, সেদিকে কড়া নজরদারি রাখতে হবে।’

রংপুর চেম্বার সভাপতি টিটু আরও বলেন, ‘বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগে প্রাণ ফেরানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখাসহ আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা, পন্থা, অর্থের সুষম বণ্টন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক কর্মসূচি ও কৌশল এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যেন সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইতিবাচক সুফল বয়ে আনে।