কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ, সেবা গ্রহীতাদের সাথে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’র এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে উক্ত পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সনাক ঝালকাঠির সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন হিমুর সভাপতিত্বে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডাঃ মো. জোয়াহের আলী।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র (টিআইবি) এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা সেবা গ্রহণের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে সঠিক সেবা প্রদানে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সকলের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তারা।

সভায় প্রধান অতিথি ডা. মো. জোয়াহের আলী বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে¡ও মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের সেবার মানোন্নয়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখানে নরমাল ডেলিভারি ব্যবস্থা রয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য ল্যাব, যন্ত্রপাতি ও জনবল লাগে যা এখানে নেই। তবে কিছু কিছু পরীক্ষা যেমন, ইউরিন টেস্ট, জরায়ুর ক্যান্সার ইত্যাদি এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে করা হয়। আমরা যারা সেবা দেই শুধু তাদেরই সচেতন থাকলে হবেনা, যারা সেবা নেয় তাদেরও সচেতন থাকতে হবে। কারণ অনেক রোগী এমন চুড়ান্ত মূহুর্তে আসেন যে আমাদের তখন কিছুই করার থাকেনা। এনেস্থেসিয়ার ডাক্তার না থাকলেও সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে নিজ দায়িত্বে বাইরে থেকে এনেস্থেসিয়ার ডাক্তার এনে এখানে সিজার করা হচ্ছে। আমাদের এখানে কিছু কর্মচারীর বেতন পাঁচ মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। সেগুলো নিয়ে একটু জটিলতার মধ্যে আছি। ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের নিকট থেকে আমরা নতুন ঔষধ সম্পর্কে জানতে পারি, তারা আমাদেরকে সে সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সাহায্য করে। তবে তাদেরকে আমরা সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি। বাইরের দালাল ঢোকা নিষেধ করে দেয়া হলেও মাঝে মাঝে এখানে আসছে। তারপরও এখানে অভিযোগ বক্স রয়েছে। যেকেউ চাইলেই এখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা সম্পর্কে কোন অভিযোগ থাকলে তা জমা দিতে পারে।এর আগে সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। তিনি বলেন, টিআইবি ও সনাক কোন ভূল-ত্রুটি ধরার জন্য নয় বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জনবল ঘাতটি থাকলেও আপনাদের নিকট থেকে যেন কাংখিত সেবা পেতে পারেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চিকিৎসা প্রদান যেমন একটি সেবা, তেমনি ধর্মীয়ভাবে এটা একটি পূন্যের কাজ। আপনাদের কাছে যদি তারা ভালো সেবা পায় তাহলে বাহিরে তারা অবশ্যই আপনাদের সুনাম করবে।সভায় ফাতেমা বেগম, মোঃ হাছান, মাহিনুর, খাদিজা আক্তারসহ কয়েকজন রোগী ও তাদের অভিভাবক মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের সেবা নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

সভার সভাপতি ও সনাক ঝালকাঠি’র সভাপতি মোঃ হেমায়েত উদ্দিন হিমু বলেন, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার মোঃ জোয়াহের আলী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এখানে এনস্থেসিয়ার ডাক্তার এখনও নিয়োগ দেয়া হয়নি। এখানে যে জনবল রয়েছে আমার জানামতে তাও এখানকার নয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে জনবল নিয়ে এসে এখানে কাজ করানো হচ্ছে। এতে এখানকার সমস্যা কিছুটা কমলে যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে সেখানকার সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। আমরা এটা নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এখনও কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, শেখেরহাটে প্রায় চার বছর আগে ভবন নির্মান করা হলেও কোন জনবল না থাকায় কোন ধরণের সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিশোর কিশোরীদের জন্য আলাদাভাবে একটি ডেস্ক করা যায় কিনা সে বিষয়ে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের চিকিৎসককে অনুরোধ করেন তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের এফ.ডাবিøউ.ভি, এফ.এম.এ, নার্স, মিডওয়াইফবৃন্দ। এছাড়া সনাক ঝালকাঠির ইয়েস সদস্যবৃন্দ ও টিআইবি’র কর্মীগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।