টাঙ্গাইল সংবাদদাতা : কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের পর জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের গৌরবের সেতু, জাতির অহংকার এই পদ্মা সেতু।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর সাথে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নাম ইতিহাসের পাতায় থাকবে। যত চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র হোক না কেন আগামী ২৫ জুন এই সেতু উদ্বোধন হবে।

শুক্রবার টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে একুশে পদকপ্রাপ্ত (মরণোত্তর) ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুলের সম্মানে এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ড. আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, একাত্তরে ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একটা নতুন জাতি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে এদেশের লক্ষ মায়ের সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বাঙালি জাতির জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, সবচেয়ে বড় সাফল্য।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। এই হত্যার উদ্দ্যেশ ছিল বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধ্বংস করা। বাংলাদেশকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দীর্ঘদিন দেশকে পরিচালনা করেছে। কখনো সামরিক শাসন জারি করে, কখনো স্বৈরাচারী কায়দায়, কখনো গণতন্ত্রের লেবাস পড়ে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্বাধীনতার পর পদ্মা সেতু সবচেয়ে বড় একটি অর্জন। এটি জাতির ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে থাকবে। পদ্মা সেতুর সাথে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নাম ইতিহাসের পাতায় থাকবে। যত চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র হোক না কেন আগামী ২৫ জুন এই সেতু উদ্বোধন হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যপক সাফল্য বয়ে আনবে। পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ অঞ্চলের ফসল বিদেশে রপ্তানির দ্বার উন্মক্ত হবে। বিভিন্ন বিভিন্ন শিল্প কারখানা তৈরি হবে। দেশের অর্থনীতিতে পদ্মা সেতু বিরাট ভূমিকা পালন করবে। সারা দেশের সাথে ২১টি জেলার নতুন করে সহজ যোগাযোগ সৃষ্টি হবে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি.এম মোজাম্মেল হক, এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, তানভির হাসান ছোট মনির এমপি, খান আহমেদ শুভ এমপি, হাসান ইমাম খান এমপি প্রমুখ।