শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : জাহানারা যখন বিয়ে-সংসার সম্পর্কে জেনেছিলেন, তখন থেকেই নিজের সংসারের স্বপ্ন দেখতেন। বিয়ে হয় রহমত আলীর সঙ্গে। ২০ বছর ধরে ঘর ছাড়া জাহানারা ছিলেন সমাজের ভাসমান এক মানুষ। স্বামীর সঙ্গে নিজের মত করে একটি সংসারের বরাবরই স্বপ্ন দেখতেন জাহানারা। বসবাসের উপযোগী নিজের একটি বাড়ি নেই। যেখানে স্বপ্নের মত নিজের সংসার সাজিয়ে তুলবেন তিনি। ভাগ্যে তা জোটেনি ২০ বছরেও। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহাস জমিসহ পাকা বাড়ী পেয়ে বসবাসের উপযোগী নিজের একটি বাড়িতে নতুন করে নতুন ভাবে দেখছে বাঁচার স্বপ্ন।

এরকম আরেকজন, নাম রহমত আলী বয়স (৩০) হত দারিদ্র এক পরিবারে জন্ম। জন্ম থেকেই অন্ধ। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে ২য়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রহমত দুই বেলা খেয়ে না খেয়ে হতদারিদ্রর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার জীবনের গল্প। বাবা মায়ের অভাবের সংসারে হাত ধরে চলা ফেরা করে বয়স যখন ১৫ বছর। অন্যের জায়গায় কুড়েঘর তুলে থাকা রহমতের বাবা মায়ের অভাবের সংসারে যে এক বড় বোঝা। চলাফেরার জন্য এনে দেন জীবন সঙ্গী। নিজে চলতে না পারলে যেন জীবন সঙ্গী তাকে নিয়ে চলা ফেরা করে। এমন দু:খ দুর্শশার মাঝে জীবন চলাতে ভিক্ষা করে চলে রহমতের সংসার। সরাদিন ভিক্ষা করে এসে যেন রাত্রিতে অন্যের জায়গায় তোলা কুড়ে ঘরে রোদ, বৃষ্টি আর কনকনে শীতের মধ্যে অতি কষ্টে পারি দিয়েছেন জীবন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহাস জমিসহ পাকা বাড়ী পেয়ে বসবাসের উপযোগী নিজের একটি বাড়ি দেখছেন নতুন করে দুই সন্তান নিয়ে বাচার স্বপ্ন।

এমনই একজন জমেলা বেগম, দুই সন্তান রেখেই মারা যান স্বামী, সেই থেকে স্বামী হারানোর বেদনা আর দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে শুরু হয় জমেলা বেগমের বেঁচে থাকার জীবনের গল্প। নিজের বলতে কিছুই ছিল না। অন্যের জায়গায় একটি কুড়েঘর তুলে মানুষে বাড়ী বাড়ী কাজ করে কাটিয়েছেন প্রায় ৩০ বছর। রাত্রিতে ঘুমাতে হত কুড়েঘরের মধ্যে। রোদ, বৃষ্টি আর কনকনে শীতের মধ্যে অতি কষ্টে পারি দিয়েছেন জীবন। শেষ বয়সে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহাস জমিসহ পাকা বাড়ী পেয়ে বসবাসের উপযোগী নিজের একটি বাড়ি দেখছেন নতুন করে বাচার স্বপ্ন। যেখানে স্বপ্নের মত নিজের সংসার সাজিয়ে তুলবেন তিনি।

এ ছাড়াও রত্না, জাহানারাসহ শেরপুর উপজেলার ১৪৫ টি পরিবারের গল্পটা এবার বদলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা পেলেন আপন ঠিকানা।

মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ- ২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে দুই শতক জমিসহ আধাপাকা নতুন ঘর উপহার পেয়েছেন তারা। মঙ্গলবার জমির দলিলসহ বাড়ি গুলো হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের মাঝে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর পেয়ে তাঁদের ঈদ আনন্দে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। স্বপ্নেও ভাবিনী ঈদ করবো পাকা বাড়ীতে।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ- ২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪৫টি এবং ২য় পর্যায়ে ১০০টি ভ‚মিহীন ও গৃহহীন পরিবার জমিসহ আধাপাকা ঘর উপহার পেয়েছেন। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ছিলো ২লাখ ৫৯হাজার ৫০০টাকা। শেরপুর উপজেলার ইউনিয়নের উপজেলার কুসুম্বি ৭টি, গাড়িদহ ৩টি, মির্জাপুর ৫৫টি, বিশালপুর ৪৯টি এবং ভবানীপুর ৩১টি মোট ৫টি ইউনিয়নে প্রকল্পের ১৪৫টি পরিবার এই পেয়েছে।

যারা ঘর পেয়েছেন তারা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এবার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করে সামাজিক ভাবে বাঁচার চেষ্টা করবো।’ এবং কিছু সঞ্চও করব। তারা এমন উপহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।’

শেরপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো: ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিমধ্যে ১৪৫টি ঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘর হস্তান্তরের পরই আমরা ঘর গুলো গৃহহীনদের বুঝিয়ে দিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেরপুর উপজেলায় নির্মিত ঘর গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। আপ্রয়ণ পল্লী গুলোতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।’ তরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।