আরফাত বিপ্লব, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : লোহাগাড়ায় স্কুল ভবন সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আমিরাবাদ জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার কাজে ঠিকাদারের বিরোদ্ধে এ অভিযোগ উঠে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ জিপিএস’র অধীনে আমিরাবাদ জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২টি ভবন সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহবান করে। সংস্কার কাজের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা। ঠিকাদার দিপু কন্তি পাল চলতি বছরের মার্চ মাসে সংস্কার কাজ শুরু করেন। এরমধ্যে একটি সেমিপাকা, অন্যটি পাকা ভবনের সংস্কার কাজ। ত্রুটিপূর্ণ কিছু কাজ করে গত ১লা মে থেকে কাজ বন্ধ রেখে উধাও হয়ে যান।

ত্রুটিপূর্ণ সংস্কার কাজ ও সম্পূর্ণ কাজ না করায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, যেটুকু করা হয়েছে তাতে অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ না করায় শ্রেণি কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। অতি পাতলা ও নিম্নমানের টিন ব্যবহার, অফিস কক্ষের উপরের তুলিতে কোনাইজ না দেওয়া এবং কিছু টিনের সাথে এঙ্গেল হুক লাগানো হয়নি। এতে সামান্য বৃষ্টি হলে পানি পড়ে কক্ষের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ছাউনিতে ছিদ্রযুক্ত টিন দেওয়ায় শ্রেণি কক্ষে বৃষ্টির পানি ঢুকে যায়। বৃষ্টি পানি কক্ষ থেকে গড়িয়ে বারান্দায় জমা হয়ে থাকে। টিনের নিচে কোন ধরণের সিলিং না থাকায় শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রচন্ড গরমে ক্লাস করতে হয়। অপরদিকে, বিদ্যালয়ের আরেকটি পাকা ভবনে ছাদ সংস্কার কাজেও হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ কাজ। এতে সংস্কার কাজের পর বৃষ্টির সময় পূর্বের চেয়ে বেশি পানি রুমে ঢুকে যায় বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান শিক্ষক।

সরেজমিন দেখা যায়, চালের টিনে ছিদ্র থাকায় বৃষ্টির পানি শ্রেণি কক্ষ থেকে গড়িয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় জমা হয়ে আছে। এতে বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে পিছলে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। এছাড়া সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় আধাপাকা ভবনের সবকটি শ্রেণি কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের অন্য একটি পাকা ভবনের ৩টি রুমে গাদাগাদি ও শিফটিং করে চলছে অফিস ও শ্রেণিকার্যক্রম।

ঠিকাদার দিপু কান্তি পাল জানায়, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। ফারুক নামে এক ঠিকাদার তাকে কাজটি করতে বলেছেন। তাকে যেই পরিমাণ টাকা দিয়েছেন, সেই পরিমাণ তিনি কাজ করেছেন। অর্থ পেলে বাকি কাজগুলোও করে দিবেন বলে তিনি জানান।

লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ ইফরাদ বিন মুনীর জানান, ঠিকাদার অসুস্থ বলে শুনেছেন। তাকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তিনি এরচেয়ে বেশিকিছু মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব জিতু জানান, বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।