খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : মাত্র কয়েকদিন আগেই ক্ষমতা হারিয়েছেন ইমরান খান। সরে গিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রীর মসনদ থেকে। আর তারপরই পুলিশের জালে পড়তে হল ইমরান খানকে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পুলিশ মামলা দায়ের করেছে ইমরান খান ও তাঁর সাবেক ক্যাবিনেটের কয়েকজন সদস্য-সহ ১৫০ জনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, নতুন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের মসজিদে নববীতে যাওয়ার পর সেখানে বিক্ষোভ দিয়েছেন ইমরানের অনুসারীরা।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, শাহবাজ শরিফ ও তাঁর সফরসঙ্গীরা মদিনায় মসজিদে নববীর কাছে পৌঁছতেই তাঁর উদ্দেশে ইমরানের সমর্থকরা জোট বেঁধে স্লোগান দিচ্ছেন। শাহবাজ শরিফ ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ‘চোর’, ‘গদ্দার’ বলে গালাগালি করতে দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে। এই স্লোগান কাণ্ডে ৫ পাকিস্তানিকে গ্রেফতার করেছে মদিনা পুলিশ।

এরপরই শনিবার রাতে পাঞ্জাব পুলিশ এফআইআর দায়ের করে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ছাড়াও তাঁর সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী, শেখ রশিদ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা শাহবাজ গুল-সহ আরও ১৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার কাসিম সোরি এবং ইমরান-ঘনিষ্ঠ লন্ডনের বাসিন্দা অনিল মুসররাত ও সাহেবজাদা জাহাঙ্গির। ইতিমধ্যেই পুলিশ জানিয়েছে, যাঁদের নাম এফআইআরে রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ইমরান খান এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, তিনি কল্পনাও করতে পারেন না মদিনায় মসজিদে নববীর মতো পবিত্র স্থানে গিয়ে কারো বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার কথা।

এদিকে পাকিস্তানের মসনদ হারানোর বেদনা এখনও ভুলতে পারেননি ইমরান। নিজের মসনদ হারানোর জন্য পরোক্ষে সেনা প্রধানককেই দায়ী করছেন তিনি। নাম না করে সেনাপ্রধান বাজওয়াকে টার্গেট করে সম্প্রতি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণেই এ ভাবে গদি থেকে সরে যেতে হল আমাকে।” বাজওয়ার পাশাপাশি বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকারকে ক্রমাগত আক্রমণ করে চলেছেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী।