নজরুল ইসলাম শুভ, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বস্তল এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির ভুইয়ার সমর্থক লক্ষ্য করে গুলি করাকে কেন্দ্র আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে দু’পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

খবর পেয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন, সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) গোলাম মুস্তাফা মুন্না ও সোনারগাঁ থানার ওসি হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৮/১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। পরে অস্ত্রধারী যুবক পারভেজকে এলাকাবাসী আটক করে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছে। এসময় দু’পক্ষের ৪টি গাড়ীও ভাংচুর করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে জাতীয়পার্টির সমর্থিত লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম ভুইয়া মাকসুদ তার নেতাকর্মী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় যান। এ সময় ওই ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় পৌছলে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির ভুইয়ার সমর্থকরা মাকসুদের গাড়ীর পথরোধ করে এলোপাতালি পিটিয়ে তার নেতাকর্মীদের আহত করে দুটি গাড়ী ভাংচুর চালায়।

এদিকে খবর পেয়ে আশরাফুল ইসলাম ভুইয়া মাকসুদের সমর্থকরা হুমায়ুন কবিরের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে মাকসুদ গুলি করেন। পরে হুমায়ুন কবির ভুইয়ার সমর্থকরা জাতীয়র পার্টির প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম ভুইয়া মাকসুদের সমর্থকদের উপর ফের হামলা চালালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অস্ত্রধারীসহ দুপক্ষের ১৫জন নেতাকর্মী আহত হন। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৮/১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। এদিকে খবর পেয়ে মাকসুদ আলমের লোকজন পাকুন্দা এলাকায় নৌকার কয়েকটি ক্যাম্প ভাংচুর করে। জামপুর ইউনিয়নের বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ন কবির জানান, গণসংযোগকালে একজন অস্ত্রধারী আমাকে পিস্তল লক্ষ্য করে গুলি করার সময় এলাকাবাসী দেখে ফেলে। তাকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। অপরদিকে বস্তল এলাকায় আমার নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে মাকসুদের বহিরাগত সন্ত্রসীরা গুলি বর্ষণ করে।

সোনারগাঁ থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৮/১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। অস্ত্রধারী পারভেজকে মুমুর্ষ অবস্থায় আটক করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, দুই প্রার্থীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।