চট্টগ্রাম ব্যুরো : টেকনাফ মডেল থানার বরখাস্ত হওয়া অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও স্ত্রী চুমকি কারণের নামে থাকা সব সম্পদ রাষ্ট্রের কাছে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ২৯ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র আবেদনে মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান এ আদেশ দেন।

আদালত স্বামী-স্ত্রী উভয়ের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে নিয়ে রিসিভার নিয়োগের জন্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে আদেশ দিয়েছেন।

দুদকের কোর্ট পরিদর্শক এমরান হোসেন এ আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

দুদক জানায়, প্রদীপ কারাগারে যাওয়ার পর থেকে স্ত্রী চুমকি পলাতক রয়েছেন।

এদিকে সোমবার (২৮ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন রিসিভার নিয়োগের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

আবেদনে ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর পাথরঘাটার ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরের বাড়ি, কার ও মাইক্রোবাস এবং কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাট রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে নিয়ে রিসিভার নিয়োগ করতে বলা হয়।
গত ২৩ আগস্ট দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বাদি হয়ে ওসি প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এজাহারে বলা হয়, প্রদীপের বাবা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক)’র একজন নিরাপত্তাপ্রহরী ছিলেন। ১৯৯৫ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে যোগ দেন প্রদীপ। ২০০২ সাল থেকে তাঁর সম্পদগুলো দৃশ্যমান হতে থাকে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নির্দেশে প্রদীপ, তার স্ত্রী, কক্সবাজারের পুলিশ সুপারসহ আটজনের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে।

দুদক জানায়, নগরের পাথরঘাটা এলাকায় চুমকি কারণ তার বাবার কাছ থেকে একটি ছয়তলা বাড়ি দানপত্রমূলে পেয়েছেন বলে সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেন। কিন্তু চুমকির দুই ভাই ও আরেক বোন বাবার কাছ থেকে কোনো বাড়ি পাননি।

২০১৩ সালে ওসি প্রদীপ বাড়িটি শশুরের কাছ থেকে দানপত্রমূলে নিবন্ধন করে নেন । ওসি প্রদীপের সব সম্পত্তিই স্ত্রী চুমকি কারণের নামে। চুমকি একজন গৃহিণী হলেও তার নামে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৯ টাকার সম্পদ থাকার প্রমাণ পায় দুদক। এসবের মধ্যে তিনি পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে খরচ করেন ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

চুমকির আগের সঞ্চয়, উপহার, বাড়িভাড়া থেকে বৈধ আয়ের ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। বৈধ আয় বাদ দিলে চুমকির নামে মোট ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পায় দুদক।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।

এ ঘটনায় নিহতের বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদি হয়ে কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রদীপসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রদীপসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে গত রোববার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।