তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ছায়ার হওয়ারের ৮১ নং প্রকল্প (পিআইসি) মতিউর বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে প্রবেশ করছে পানি। এই হাওরটি জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওরগুলির একটি।

হাওরাঞ্চলের নেত্রকোণার খালিয়াজুরি, পশ্চিম পাড়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা, উত্তর পাড়ে একই জেলার দিরাই এবং দক্ষিণ দিকে হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা কিছু অংশ সীমানা এই ছায়ার হাওরে। আবার কুশিয়ারা হয়ে মিলিত হয়েছে ভৈরবের কাছে মেঘনায়। এই চার জেলার সীমানা এসেছে এই ছায়ার হাওরে।

রোববার সকালে অনুমান (সাড়ে ৬ টায়) শাল্লা উপজেলার মাউতির বাঁধ নামক স্থানটি ভেঙে ছায়ার হাওরে পানি প্রবেশ করছে। দেখতে-দেখতে চাখের সামনে তলিয়ে গেল কৃষকের পাকা আধা-পাকা উঠতি সোনালী ধান। এ হাওরে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার ৪ হাজার ৬৩৭ হেক্টরসহ, দিরাই উপজেলা, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার বোরো জমিও রয়েছে। সাধারণত বর্ষাকালে প্রায় ছয় মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকে ছায়ার হাওর।

এ সময় যতদুর চোখ যায় হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা শুধুই পানি আর পানি থৈ-থৈ করে। এক পাড় হতে অন্য পাড় সহজে চেনা যায়না। এক ফসলী বোরো জমিই এই হাওরের। বৈরী আবহাওয়া না থাকলে চৈত্র-বৈশাখ মাসেই শেষ হয় এই হাওরের ধান কাটে। তবে এবার যেন কৃষকের সব হিসেব উল্টো গেছে।

ভারতের পাহাড়ি ঢলে অসময়ে নেমে আসা স্বাভাবিক সময়ের প্রায় এক থেকে দেড়মাস আগে তলিয়ে গেছে পুরো হাওর। হাওরের কৃষকরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তাদের উঠতি সোনালী ধান ঘরে তোলতে।

কৃষকরা জানান, এই হাওরে সবচেয়ে বেশি জমি শাল্লা উপজেলার। কিছু জমি কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন ও কিছু জমি নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষকদের। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে। বাকি অর্ধেক ধান কাটা বাকি আছে। এ অবস্থায় হাওর তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জানা গেছে, রোববার ভোরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধটিতে ফাটল দেখা দেয়। পরে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করতে থাকে। বাঁধ ভাঙার এ দৃশ্য দেখে হাজারো কৃষক তাঁদের অবশিষ্ট জমির ধান কাটতে হাওরে নামেন।

কৃষকরা জানান, ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধটি ২২ লাখ টাকার এই প্রকল্প দেওয়া হয়। পিআইসি বাঁধের কাজে অনিয়ম ছিল। এই কারনেই বাঁধ ভেঙে হাওরের পানি প্রবেশ কওে উঠতি ধান তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা হাওরের সোনালী ধান তলিয়ে যাওয়ার জন্য পাউবোকেই দায়ী করেছেন।

তারা বলেন, হাওরে ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্ররুয়ারী কাজ শে করারর নিয়ম ছিল। কিন্ত পাউবো নিয়ম মতো কাজ করেনি। বাঁধে দর্মুজ হয়নি। এখন পর্যন্ত কোন বাঁধের শত ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানাননি। দেড়িতে কাজ হওয়ায় বাঁধের মাটি ঠিক হয়নি। নিয়ম মোতাবেক বাঁধে দুরমুজ না করায় পানির ধাক্কা নিতে পারেনি বাঁধ তাই সহজেই ভেঙ্গে গেছে। পাউবো, পিআইসি কেই দায়ী করেছেন ছায়ার হাওরের কৃষকরা।

শাাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তালেব বলেন, ছায়ার হাওরের প্রায় ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। গত রাতে (শনিবার রাত) প্রচন্ড ঝড় হয়েছে হচ্ছিল। এ কারণে কেেউ বাঁধের কাছে থাকতে পারেনি। পানির জোড় বেশী হওয়ায় বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে।