সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃনমূল নেতাদের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ক্রমানুসারে তালিকা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাছ থেকে প্রার্থীদের নাম পূরণ না করেই শুধু স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের নেতাদের জানানো হয়নি কেন্দ্রে পাঠানো প্রার্থীদের নাম। সেই সাথে মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে জন প্রতি ১০ হাজার টাকা। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন এ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ অক্টোবর সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয় থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়।

এতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। জানা গেছে, ওই দিন বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের বাড়ি পূর্বভাকুম বাউল কমপ্লেক্সে এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন ও অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্দিষ্ট ফরমে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর নাম- ঠিকানার ঘর খালি রেখে শুধু তাদের স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করে ৩ জন প্রার্থীর নাম উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি।

এ ছাড়া তালিকা করার সময় পর্যন্ত তাদের দেয়া হয়নি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে অভিযোগ করেন। তাদের আশংকা, এ তালিকা থেকে ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতারা বাদ পড়বেন। ফলে, দলের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দল সৃষ্টি হবে।

সায়েস্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আল মামুন টিপু বলেন, কোন রকম সময় না দিয়ে ফরমে প্রার্থীর ঘর খালি রেখে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। চারিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ওহাব আলী পোদ্দার বলেন, আমাদের ইউনিয়নে বিএনপি থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগ ব্যক্তি দেওয়ান মোঃ রিপন প্রার্থী হয়েছে। আমি প্রকাশ্যে বর্ধিত সভায় এ বিষয়ে অভিযোগ করেছি। তারপরেও জানতে পারলাম প্রার্থী প্যানেলে তার নাম দেয়া হয়েছে।

জামির্ত্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল বাশার বলেন, আমাদের ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্ধিত সভা করার কোনো সময় দেয়া হয়নি। উপজেলা বর্ধিত সভায় আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে দায়িত্বশীল ৩ নেতা প্রার্থীদের নামের তালিকা চুড়ান্ত করেছেন।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল মাজেদ খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সহ-সভাপতি আনোয়ারা খাতুন বলেন, বর্ধিত সভায় যা হয়েছে সকলের মতামত নিয়েই হয়েছে।