ড্রাইভার যখন ডাক্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি : সাভার পৌর এলাকার ডগরমোড়া থেকে এক শিশুকে ভুল চিকিৎসা সেবা দেয়ার অভিযোগে ফিজিও থেরাপিষ্ট এক কথিত ডাক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে তাকে আট করা হয়েছে।

আটককৃত কথিত ফিজিওথেরাপিষ্ট ডাক্তারের নাম- সবুজ মাতুব্বর (৪০)। তিনি বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানার বালিয়া গ্রামের জাহের মাতাব্বারের ছেলে। স্থানীয় হানাডা স্কুলার্স স্কুলের ছাত্রী ঐশীদের বাড়িতে ভাড়া থেকে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পূর্ণবাসন কেন্দ্র সিআরপি থেকে ৩ বছর আগে বদলি হওয়া এক ডাক্তারের ড্রাইভার ছিল আটককৃত কথিত ফিজিওথেরাপিষ্ট ডাক্তার সবুজ মাতুব্বর। তিনি ডাক্তারের গাড়ীর ড্রাইভার থাকাবস্থায় কিভাবে ডাক্তার চিকিৎসা দিতেন তা দেখে ড্রাইভারী পেশা ত্যাগ করে সিআরপি এলাকায় রুম ভাড়া করে প্রতি রোগীর নিকট থেকে মাসিক কন্ট্রাকে সর্বনিম্ন ১৮ হাজার টাকা এবং সর্বচ্চো ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভুল চিকিৎসা দিয়ে আসছিল।

আটককৃত কথিত ডাক্তার এবং তার সহযোগীরা সিআরপি’র সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন যখন কোন রোগী বের হতেন তিনি ঔখান থেকে রোগীদের টার্গেট করে রোগী সংগ্রহ করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় নার্গিস বেগম নামের এক নারীর শিশু ছেলে মাহমুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের কন্ট্রাকে তার পরিবারের সদস্যরা তার নিকট চিকিৎসার জন্য ভর্তি করালে আড়াই বছর ধরে তিনি ওই শিশুকে তার ডান পা সোজা করার জন্য থেরাপি দিয়ে পাঁচ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নেন গরীব ও অসহায় এ পরিবারের কাছ থেকে।

দীর্ঘ আড়াই বছর যাবৎ থেরাপি দিলেও শিশুটির ডান পা বাকা থেকে সোজা না হলে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর কথিত ডাক্তার তার হাত দিয়ে টেনে এবং পা দিয়ে চেঁপে ধরে টান দিলে পা সোজা করতে চাইলে শিশুটির রানের হাঁড় ভেঙ্গে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে কথিত ডাক্তার সবুজ মাতাব্বরকে প্রধান আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করলে বুধবার রাতে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সাভার মডেল থানার (এসআই) মোঃ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান- আটককৃত কথিত ডাক্তার কে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান- আটককৃত সবুজ মাতব্বরের অধীনে এখনো ২৫ জন রোগী রয়েছে। প্রতিজনের নিকট থেকে সর্ব নিম্ন মাসিক ১৮ হাজার টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা কন্ট্রাকে টাকা নিতেন।