সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি : সাভারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পোশাক পরিহিত ভূয়া পুলিশসহ ৬ ডাকাতকে আটক করেছে র‌্যাব-৪। এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব-৪ এর সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সাভারের রাজাশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো ডাকাত সরদার মোঃ শামীম রেজা (৩০), মোঃ হেলাল উদ্দিন (৩৫), মোঃ পারভেজ (২৫), ওয়াসিম ইসলাম (২৫), মোঃ নাইম খান (২৭), মোঃ ফেরদৌস আহমেদ রাজু (২৯)।

শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব-৪ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানার পৌর এলাকার রাজাশনে অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে গোপন মিটিং করার সময় ৬ ডাকাতকে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি নকল পিস্তল, একটি পিস্তল টাইপ লাইটার, একটি কভারসহ হ্যান্ডকাফ, একটি ওয়াকিটকি, দুই সেট পুলিশের ইউনিফর্ম, পুলিশ জ্যাকেট, পুলিশ বেল্ট, ভূয়া পুলিশ আইডি কার্ড, দুটি রামদা, একটি ডেগার, একটি চাপাতি, দুটি ছুড়ি, দুটি টর্চলাইট, দুটি রশি, ৪৬৭ পিস ইয়াবা, ত্রিশ বোতল ফেন্সিডিল, দেড় কেজি গাঁজা, সাত গ্রাম হেরোইন, পাঁচ লিটার চোলাই মদ, ১৯ টি মোবাইল এবং নগদ ৪৪,৫৭০/-টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৪ আরো জানান, আটককৃত ডাকাত সরদার মোঃ শামীম রেজা কিশোর বয়স থেকেই অপরাধ কার্যক্রমের সাথে জড়িত। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহী। সে গ্রামের একটি স্থানীয় স্কুল থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে ঢাকায় এসে সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে সে একটি ডাকাত বাহিনী গড়ে তুলে। সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটি রাতের আধারে পুলিশের ভুয়া ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় টর্চ লাইট দিয়ে গাড়ি থামিয়ে টাকা-পয়সা, স্বর্ণ-অলংকার, মোবাইল এবং দামি জিনিসপত্র লুটপাট করতো।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ডাকাত সরদার শামীম রেজা ২৫-৩০ টি অটো রিকশা ও সিএনজির মালিক। তার নামে অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে নিজেকে পুলিশ বাহিনীর একজন সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচয় দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, নকল আগ্নেয়াস্ত্র, নকল আইডি কার্ড, ইউনিফর্ম, ওয়াকি টকি সেট ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করতো।

সাভার এলাকায় সে একটি সক্রিয় ডাকাত বাহিনী ও মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, সে বিভিন্ন সময়ে ভূয়া পুলিশ অফিসার সেজে তার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা ও বানোয়াট ভাবে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতো।

র‌্যাব-৪ সিপিসি-২ কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খাঁন বলেন, আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র, ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা এবং মাদক মামলা প্রক্রিয়াধীন। তাদের বিরুদ্ধে সাভারসহ বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।