রাঙামাটি প্রতিনিধি : সাফ ফুটবলের বিজয়ে যেন রূপ পাহাড়ের রূপনা’র সাথে হাসছে আমাদের বাংলাদেশ।

রূপ পাহাড়ের দূর্গম গাঁয়ের রূপনা চাকমা’র দল জীবনের সেরা শ্রম-মেধা আর ত্যাগে ছিনিয়ে এনেছে বিজয়। তার জীবন যাপন আমাদের সভ্যতাকে লজ্জা দেয়। এ পর্যন্ত এসেছে সে জীর্ণ শীর্ণ ঘরে খোলা আকাশের নীচে বৃষ্টিতে ভিজে কোন মতে দিন গুজরান করে। অথচ গোলপোস্টে আস্থার প্রতীক ছিলো বাংলাদেশের সাফ ফুটবলে শিরোপা অর্জনে।

সদ্য সমাপ্ত সাফ ফুটবলে কঠিন মনোবল, একাগ্রতা, প্রতিপক্ষকে হারানোর অদম্য বাসনা ও খাঁটি দেশপ্রেম বুকে নিয়ে রূপনা চাকমা, রিতুপর্ণা চাকমা ও তাদের সাথীরা এনে দিয়েছে গৌরবোজ্জ্বল বিজয়। রিতুপর্ণা চাকমা ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে বিকেএসপিতে চলে যান। তার বাড়ি ঘাগড়াতে।

নানিয়ারচরের ঘিলাছড়ির ভূঁইয়ো আদাম থেকে ছোটবেলায় বীরসেন চাকমার মাধ্যেমে ঘাগড়াতে চলে যান গোলকিপার রূপনা চাকমা। সে পিতৃহীন অবস্থায় জীবন এগিয়ে নিয়ে এসেছে কঠিন বাস্তবতার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে।

সাফ ফুটবলে জয়ের পর রূপনা চাকমা ও রিতুপর্ণা চাকমা প্রশংসায় ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মিডিয়ায়। সেই খবর ছড়িয়ে পড়লে রূপনা ও রিতুর বাড়িতে যান রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেককে নগদ দেড় লাখ টাকা করে তিন লাখ টাকা পুরস্কৃত করা হয় ।

ছাউনিহীন ভাঙা কুঁড়ে ঘরে মা আর ভাইবোনদের নিয়ে থাকেন রূপনা। বিধবা মা’য়ের কনিষ্ঠ সন্তান রুপনা চাকমা। সে ছোটবেলা থেকে খেলাধুলার প্রতি বেশ মনোযোগী ছিলো। জীবনের বেশীর ভাগ সময় কাটে মা, ভাই বোনরে ছেড়ে। জেলার নানিয়ারচর উপজেলা ভূঁইয়ো আদামের আঁকাবাঁকা পথ আর একটি কাঠের সেতু পরিয়ে যেতে হয় তার বাড়ি। রূপনা গাঁয়ে ফিরবে, সে খুশিতে আনন্দ উচ্ছ্বাস করবে এমন ভাবনায় পথ চেয়ে রয়েছে তার এলাকাবাসী।