বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতার শিকার হয়ে ফিরে আসা ফিশিংবোট এফবি আটভাই ফিশ। ছবিটি রোববার সকালে শরণখোলার রাজৈর মৎস্যঘাট থেকে তোলা। ছবি: প্রতিনিধি    

শেখ মোহাম্মদ আলী, সুন্দর বন অঞ্চল প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুরা আবারো মাথা চাড়া দিয়ে ওঠায় জেলে মৎস্যজীবিদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। শনিবার রাতে সাগরে তিনটি ফিশিংবোটে ডাকাতি করে তিনজনকে অপহরণ করেছে দস্যুরা। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে মুক্তিপণের দাবীতে চার জেলেকে অপহরণ ও এক জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে জলদস্যুরা।

শনিবার (২০ নভেম্বর) রাত নয়টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের কচিখালীর দক্ষিণে সাগরের গাঙ্গের আইন এলাকায় জলদস্যুতার শিকার ফিশিংবোটগুলো হচ্ছে, শরণখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের আনোয়ার হাওলাদারের এফবি আট ভাই ফিস, রাজৈর গ্রামের আমিনুল হাওলাদারের এফবি শাওন, পাথরঘাটা উপজেলার ফিরোজ মাতুব্বরের এফবি মায়ের দোয়া।

রোববার (২১ নভেম্বর) সকালে শরণখোলার রাজৈর মৎস্যঘাটে ফিরে আসা দস্যুতার শিকার এফবি আট ভাই ফিস বোটের মাঝি মহিদুল মুন্সি জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৯টায় সুন্দরবনের কচিখালীর দক্ষিণে সাগরের গাঙ্গের আইন এলাকায় তারা ১৭ টি ফিশিংবোট মাছ ধরছিলেন।

এ সময় অপর একটি বোটে ১১ জনের ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র ও দা নিয়ে তাদের বোটগুলোতে হামলা চালায়। ডাকাত দল জেলেদের মারধর করে ইলিশ ও ডিজেল এবং মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপনের দাবীতে তার বোটের জেলে লোকমান হোসেন (৬০), এফবি শাওন বোটের মাঝি জাকির হোসেন (৫০) ও পাথরঘাটার এফবি মায়ের দোয়া বোটের জেলে জামাল হোসেন (৫০)কে অপহরণ করে নিয়ে বলে যায় মাঝি মহিদুল জানান।

পাথরঘাটা মাছধরা ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি মোঃ দুলাল মিয়া জানান, গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বের) বঙ্গোপসাগরের আশার চর এলাকা থেকে পাথরঘাটার বাদুরতলা গ্রামের নেছার উদ্দিন খানের এফবি মা বোটে হামলা চালিয়ে ডিজেল ও বিভিন্ন মালামালসহ বোটের মালিক নেছার উদ্দিন কে মুক্তিপনের দাবীতে অপহরন করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার আগে গত ১৬ নভেম্বর সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া এলাকায় এফবি বাবুল বোটের মাছ ও রসদ সামগ্রী লুটে নিয়ে দস্যুরা গুলি চালালে মোঃ মুসা নামে এক জেলে নিহত হয়। নিহত জেলের বাড়ী পাথরঘাটা উপজেলার চর লাঠিমারা গ্রামে।

বাগেরহাট জেলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, এবছর ইলিশ মৌসুমে এ অঞ্চলের সাগরে ইলিশ না পাওয়ায় জেলে ও মহাজনরা নিস্বঃ হয়ে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এমনি অবস্থায় সাগরে জলদস্যুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় তারা আতংকগ্রস্ত হয়ে আছেন এখনি দস্যুদের নির্মুল করা না গেলে জেলে মৎস্যজীবিদের পথে বসতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, সাগরে জলদস্যুতার কথা তারা শুনেছেন বঙ্গোপসাগরে তাদের একটি জাহাজ ও সুন্দরবনের কচিখালী, দুবলার চর কোষ্টগার্ড সদস্যরা টহলে রয়েছে বলে ঐ কর্মকর্তা জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর এলাকা দস্যুমুক্ত ঘোষনা করেন।