খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা৷ অনলাইন এবং অ্যাপ ব্যবহার করে সাইবার অপরাধের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে৷ জুয়া, পর্নোগ্রাফি থেকে শুরু করে মানব পাচারও বাদ যাচ্ছে না সাইবার অপরাধে৷

সম্প্রতি সংঘবদ্ধভাবে এক নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় ভারতের ব্যাঙ্গালুরু পুলিশ পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে৷ তাদের একজন এ বি হৃদয়৷ সে ‘টিকটক হৃদয়’ নামে পরিচিত৷ পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, টিকটক অ্যাপে কাজ করার প্রলোভন দেখিয়ে নারী পাচারের অপরাধ করে আসছিলো হৃদয়৷

হৃদয়সহ ভারতে আটককৃতরা বাংলাদেশ থেকে এক তরুণীকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে নির্যাতন করে৷ সেই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরেই ভারতের পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে৷ তবে মেয়েটির খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি৷

মেয়েটির বাবা হাতিরঝিল থানায় মামলা করার পর পুলিশও অভিযুক্তদের ব্যাপারে সক্রিয় হয়েছে৷ পুলিশের দাবি, তারা টিকটক ভিডিও করার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচারকারী চক্র হিসেবে কাজ করত৷

গত সপ্তাহে দেশে আরেকটি অনলাইন অপরাধী চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি৷ তারা ‘স্ট্রিমকার’ নামে একটি জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের বাইরে টাকা পাচার করে আসছিলো৷ এই চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি৷ তারা এই জুয়ায় বিটকয়েনসহ আরো কিছু অনলাইন মুদ্রা ব্যবহার করত৷

অনলাইনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা, যৌন হয়রানিসহ আরো অনেক অপরাধ দেশে আগে থেকেই চলছে৷ কিন্তু নতুন ধরনের এই অপরাধ শঙ্কার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে৷ আর এইসব অপরাধের জন্য অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অ্যাপে অপরাধীদের নানা ধরনের গ্রুপ আছে৷ তদন্তে সেসব গ্রুপের নামও বের হয়ে আসছে৷

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমবারের মতো দেশে ভয়ঙ্কর এলএসডি মাদকের সন্ধান পেয়েছে৷ এই মাদকের যোগাযোগও চলে অনলাইনে৷ ফেসবুকে এই মাদক সেবন ও সরবারাহকারীদের একাধিক গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷

এ ছাড়া গত অক্টোবরে অনলাইন পর্নোগ্রাফির সাথে যুক্ত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যলয়ের তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ তারা পর্নোগ্রফির বাজার গড়ে তুলেছিলো উন্নত বিশ্বে৷ নানা প্রলোভন আর বন্ধুত্বের আড়ালে তারা পর্নোগ্রাফি তৈরি করত৷ এর আগেও ২০১৪ সালে এরকম আরেকটি গ্রুপ ধরা পড়ে৷

ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাদের কাছে ২০১৮ সালে সরাসরি ঢাকা শহর থেকে অভিযোগ আসে এক হাজার ৭৬৫টি৷ এছাড়া হ্যালো সিটি অ্যাপস, ফেসবুক, মেইল ও হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়া যায় ছয় হাজার ৩০০৷ ২০১৯ সালে সরাসরি অভিযোগের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৯৩২টি৷ আর হ্যালো সিটি অ্যাপস, ফেসবুক, মেইল ও হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়া যায় ৯ হাজার ২২৭টি৷ ২০১৯ সালে মোট অভিযোগের ৫৩ শতাংশ করেছেন পুরষ আর বাকি ৪৭ শতাংশ অভিযোগকারী নারী৷

অনলাইনকেন্দ্রিক অপরাধের সমাধানের উপায় কী? : অনলাইনকেন্দ্রিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিভিন্ন অ্যাপস বন্ধের প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে৷ তবে তথ্য প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা মনে করেন, অ্যাপস বন্ধ করা যেমন কঠিন তেমনি সেগুলো নিষিদ্ধ করেও লাভ নাই৷

তিনি বলেন, ‘‘নিষিদ্ধ করে ব্যবহার ঠেকানো যায় না৷ এর জন্য দুইটি বিষয়ে জোর দেয়া প্রয়োজন৷ সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা আরো বাড়ানো এবং দরকার প্যারেন্টাল গাইডেন্স।”

তানভীর হাসানের মতে, ‘‘সন্তান যে গ্যাজেটটি ব্যবহার করছে তার প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অন করে দিতে হবে৷ ফলে সন্তান যদি কোনো নিষিদ্ধ অ্যাপ ব্যবহার করে, সাইটে ঢোকে বা গ্রুপে তৎপর হয় তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তার নোটিফিকেশন পাবেন৷’’

ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘‘সমস্যা হচ্ছে সাইবার অপরাধের ধরন প্রতিদিনই পাল্টে যাচ্ছে৷ আমরাও সেই অনুযায়ী আমাদের তদন্ত, অনুসন্ধান এবং প্রযুক্তি আপডেট করছি৷ ঢাকায় সাইবার অরপরাধ দমনে আমরা সক্ষম৷ কিন্তু সারাদেশে সেই সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি৷ তবে কাজ চলছে৷ প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি হচ্ছে৷”

তিনি জানান, তাদের নীতি হলো কোনো অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ঢালাও বন্ধ না করা৷ অপরাধ চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া৷ তবে জুয়াসহ আরো কিছু অ্যাপ আছে যা নিষিদ্ধ৷ তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে