এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্য গোপন রেখে টানা ২৭ বছর ধরে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরী করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। দুদকের মামলার সুবাদে সম্প্রতি এক প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হলেও বহাল তবিয়তে আছেন অন্য প্রতিষ্ঠানে। অভিযুক্ত কানু কুমার নাথ মিরসরাইয়ের ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের নাথ পাড়ার বিনোদ বিহারী নাথের ছেলে।

দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের নাথ পাড়ার বিনোদ বিহারী নাথের ছেলে কানু কুমার নাথ ১৯৯১ সালে হাটহাজারী উপজেলার ৩ নং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন।

যোগদানের চার বছরের মাথায় ১৯৯৪ সালের ৫ মে নিয়োগ পেয়ে ৮ মে পার্শবর্তী উপজেলা ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিষয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। এরমধ্যে ২০০২ সালের এপ্রিলে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিও পান কানু কুমার নাথ। তবে তিনি কলেজে নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও প্রথম কর্মস্থল মির্জাপুর ইউনিয়নের সচিব পদে অন্য ব্যক্তি তার হয়ে নিয়মিত কাজ করতেন। যার জন্য ওই ব্যক্তিকেও অর্থ প্রদান করতেন কানু কুমার নাথ। তবে সরকারি বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতেন তিনি।

ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো বনানী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ফারুকুর রহমান জানান, কানু কুমার নাথ ১৯৯৪ সালে বাংলা প্রভাষক পদে এ কলেজে নিয়োগ পান এবং এপিওভুক্ত হন। এক বছর আগে জানতে পারি তিনি হাটহাজারীতে একটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে কর্মরত আছেন।

অধ্যক্ষ আরো জানান, এ কলেজে এমপিওভুক্ত একজন শিক্ষক হিসেবে তথ্য গোপন করে অন্যত্র আরো একটি পদে চাকরি করেন জেনে আমরা কলেজ থেকে অধ্যাপক কানু কুমার নাথকে লিখিত শোকজ করেছি। পরবর্তীতে এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ তদন্ত করে। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

দুদক জানায়, তথ্য গোপন করে দুই পদে চাকরি করে আসলেও ২০২১ সালে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরবর্তীতে এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ তদন্ত করে। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হলেও কানু কুমার নাথ ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২১ সাল (বরখাস্ত হওয়া) পর্যন্ত দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে কলেজের বেতন বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন।

অপর দিকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাটহাজারি উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বেতন হিসেবে উত্তোলন করেছেন প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা যা দুদক আইনে অপরাধের সামিল।

অভিযুক্ত কানু কুমার নাথের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এলোমেলো কথা বলতে থাকেন। তবে লোভে পড়ে ভুল করেছেন স্বীকার করেন।

এ ছাড়া তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তিনি এখন কোথাও চাকরী করছেন না। তবে হাটহাজারি উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আকতার হোসেন খান জানান, কানু নাথ ইউপি সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিয়মিত।

তাদের দুই জনের কথায় মিল না পাওয়ায় পুনরায় ফোন করা হলে কানু নাথ বলেন, দুদকের মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন হয়। যেহেতু পূর্ব থেকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করেছে তাই তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সচিবের পদটি বহাল রাখা হয়েছে। এমন একটি চিঠি পেয়ে ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে গত জানুয়ারীতে ছুটি নিয়ে চলে আসি। আর কর্মস্থলে যাওয়া হয়নি। বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করতে চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনকে বার বার ফোন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েব সাইটে দেখা যায়, কানু কুমার নাথ এখনো সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। সচিবের স্থানে তার নাম ও ছবি রয়েছে।