খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর আগে রুশ সৈন্যরা যেখানে ছিল, সেখানেই ফিরে যায় কিনা, তার ওপরই নির্ভর করবে রাশিয়ার সঙ্গে যে কোন শান্তি চুক্তি।

লন্ডন ভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউজের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, শান্তি চুক্তির ব্যাপারে তার দেশের জন্য ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য অবস্থান হচ্ছে এটা। – বিবিসি

জেলেনস্কি বলেন, তিনি “ইউক্রেনের নেতা, ক্ষুদ্র-ইউক্রেনের নন।” তবে ২০১৪ সালে রাশিয়া যে ক্রাইমিয়া অঞ্চলকে দখল করে নিজের সীমানায় ঢুকিয়েছে, তার কথা কিছু উল্লেখ করেননি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

রাশিয়া এখন ইউক্রেনের মারিউপোল শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য লড়াই করছে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এই শহরটির বিশাল ইস্পাত কারখানা আযভস্টাল স্টিল ওয়ার্কসে এখনো কিছু ইউক্রেনিয়ান সৈন্য এবং বেসামরিক মানুষ রয়ে গেছে। সেখানে রুশরা এখন আক্রমণ চালাচ্ছে।

রাশিয়া যদি মারিউপোলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, গত দু’মাসের যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য এটি হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ৯ নভেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তখন উদযাপন করার মতো একটি বিজয় দেখাতে পারবেন। রাশিয়ায় প্রতি বছর এই দিনটিতে ঘটা করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের বার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

তবে কিয়েভ থেকে লন্ডনের চ্যাথাম হাউজে দেয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ইউক্রেনের যেসব এলাকা দখল করেছে, সেগুলো তাদের দখলে রেখে দেয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না।

বিবিসির এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে হলে যে পদক্ষেপ নিতে হবে, তা হলো ২৩শে ফেব্রুয়ারির অবস্থানে ফিরে যাওয়া।” যে দিনটিতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, সেদিনটির কথা উল্লেখ করছিলেন তিনি।

“আমি ইউক্রেনের জনগণের ভোটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছি, আমি কোন মিনি-ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট”, বলছিলেন তিনি।

জেলেনস্কি যে ২৩শে ফেব্রুয়ারির অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন, তাতে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তিনি হয়তো রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় আসার জন্য ক্রাইমিয়া ফিরে পাওয়ার বিষয়ে অত জোরাজুরি করবেন না। রাশিয়া আট বছর আগে ক্রাইমিয়া অঞ্চল দখল করে নিজের সীমানা-ভুক্ত করে।

জেলেনস্কি রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরুরও আহ্বান জানান।

রাশিয়া বলছে, এই শান্তি প্রক্রিয়া এখন একটি ‘অচলাবস্থার’ মধ্যে পড়েছে।