বগুড়া প্রতিনিধি : উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সম্মানজনক সরকারী চাকুরী না পেয়ে মাটি আর ঘাসের সাথেই মিতালি করেছেন সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী সবুজ মিয়া। তবে ভালো চাকুরী না পেলেও নিজের চেষ্টায় সফল হয়ে এখন তিনি বেকারদের অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। যারা তাকে এক সময় বাঁকা চোখে দেখতো তারা এখন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

সফল চাষী মোঃ সবুজ মিয়া সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার আলমপুর পূর্বপাড়ার গোলাম হোসেনের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সবুজ বড়। ছোট ভাই কলেজে পড়ে। পিতা একজন কৃষক। তাই সংসারটাও তেমন স্বচ্ছল নয়।

তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে গণিতে অনার্স এবং মাস্টার্স পাশ করে যখন ঘরে ফিরে যান তখন মা-বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় চাকরিজীবি হবে, সংসারে স্বচ্ছলতা আসবে। কিন্তু সবুজ মিয়ার ভাগ্যে চাকুরীর এই দূর্মূল্যের বাজারে ভালো চাকুরী জোটেনি।

কিছু দিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও মনের প্রশান্তি মিলেনি। তাই গত প্রায় ২ বছর আগে আবারও গ্রামে ফিরে গ্রামের মাটিকেই আঁকড়ে ধরে কৃষি কাজ শুরু করেন।

এক বছর ৯ মাস আগে ১২০ শতক অন্যের জমি লিজ নিয়ে বারো মাসি আম, পেয়ারা এবং বরইয়ের বাগান গড়ে তোলেন। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে-পুড়ে কঠোর পরিশ্রম করতে থাকেন তিনি। উচ্চ শিক্ষিত ছেলের ফলের বাগান প্রথমে ভাল ভাবে নেননি মা-বাবা।

এ ছাড়া গ্রামের অনেক লোকজনও বাঁকাচোখে দেখতো এবং নানা কথা বলতো। কিন্তু সবুজ মিয়া কারো কথায় কান না দিয়ে মনোযোগ দেন তার ফল বাগানে। এক সময় ফুলে ফলে ভরে ওঠে তাঁর বাগান। গাছে গাছে দুলতে থাকে বারোমাসি বাহারী রঙের আম, বড় বড় পেয়ারা আর সুস্বাদু বরই। বাগান ভর্তি ফল দেখে সবুজ মিয়ার মা-বাবার চোখে মুখে খুশির ঝলক দেখা দেয়। সেই সাথে প্রতিবেশীরাও তার সফল বাগানের প্রশংসা করতে থাকে।

সফল চাষী সবুজ মিয়া জানান, গত বছর বাগান থেকে ৫০ হাজার টাকার পাকা আম, ৬০ হাজার টাকার পেয়ারা এবং ২ লক্ষ টাকার বরই বিক্রি করেছেন। এবারও ২ লক্ষাধিক টাকার বরই বিক্রি হবে বলে আশা করছেন। বর্তমানে থাই জাতের পাকা আম তিনশ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এতে আমাদের পরিবার এখন স্বচ্ছল হয়ে উঠছে।

সবুজ মিয়া আরও জানান, শুরুতে অনেকে কৃষি কাজকে ভিন্ন চোখে দেখলেও মুনাফা পাওয়ার পর সবাই প্রশংসা করছেন। এমন কি বাগান দেখতে অনেক মানুষ আসেন। যারা এক সময় অবজ্ঞা করতো তারাই এখন আমাকে নিয়ে গল্প করে। বিশেষ করে বাগানের বরই, পেয়ারা এবং ডিসেম্বর মাসে আম দেখে সবাই অবাক। মা-বাবা আগে বিরোধীতা করলেও এখন সাপোর্ট দেয়, আমাকে নিয়ে গর্ব করে।

সবুজ মিয়া মনে করেন, উচ্চ শিক্ষিত তরুনদের জন্য কৃষিকাজ মোটেও সহজ নয়। পরিশ্রমের সাথে সাথেই ফল পাওয়া যায় না। এ জন্য দরকার প্রচুর পরিশ্রম আর ধৈর্য্য। পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। হতাশার পর সুখের নাগাল পেয়েছেন সবুজ ও তার পরিবার।

তার সফলতা দেখে অনেক শিক্ষিত তরুণ চাকুরীর পিছে না ঘুরে তাকে অনুসরন করতে শুরু করেছেন।