তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সিলেট থেকে : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিলেট বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দিতে পথে পথে বিভিন্ন বাধা, তল্লাশি ঠেকিয়ে সিলেটের রাজপথ এখন জিয়া-জিয়া, খালেদা জিয়া, তারেক-তারেক, রহমান-রহমান শ্লোগানে উত্তাল।

বহু প্রতিকূলতা পেরিয়েই সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশে বুধবার থেকেই জড়ো হতে শুরু করে হাজার-হাজার নেতা-কর্মী। নির্ঘুম রাতের পর চারদিকে এখন শুধুই মিছিল আর মিছিল। নেতা-কর্মীরা শোডাউন দিচ্ছেন শহরজুড়ে।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) সকাল থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্লোগানের পর স্লোগান দিয়ে মুখরিত করে রেখেছেন আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ ও এর আশেপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক।

গতকাল থেকেই মূলত সিলেট নগরীতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ হাওরপাড়ের নিভৃত পল্লীর গ্রাম থেকেও নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আসতে শুরু করেন। পরিবহন ধর্মঘটে যিনি যেভাবে পারছেন এসেছেন সিলেটে।

গতরাতে শহরের রাজপথে দেখা গেছে অভিনব সব দৃশ্য। হাজার হাজার নেতা-কর্মী নির্ঘুম রাত্রি যাপন করেছেন সিলেটের ঐতিহাসিক আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের সভাস্থলে। ছিল না কোনো বিছানা। নিজ নিজ জেলা উপজেলার টাঙানো তাবুতে রান্না করে খাওয়া-দাওয়া করেছেন, অনেককে চিড়া-মুড়ি, কেক, পাউরুটি খেতে দেখা গেছে।

বিএনপির গণসমাবেশকে সফল ও স্বার্থক করতে সকাল থেকে সিলেট নগরীর এখন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল সহকারে সভাস্থলে আসছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জোড়ালো শ্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে সিলেটের অলিগলি।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন, কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা মো: আনিসুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মীদর বিশাল মিছিল বহর এসে পৌঁছে সভাস্থলে।

ভোটাধিকার, গণতন্ত্র, তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচন, নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে দলের নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির দাবিতে, সিলেটে গণসমাবেশ করছে বিএনপি। এটি বিএনপির সপ্তম বিভাগীয় গণসমাবেশ। এ সমাবেশকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সিলেটজুড়ে পরিবহন ধর্মঘট ডাকার পরও জনস্রোতে পরিণত হচ্ছে আলীয়া মাঠ। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

নেতাকর্মীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ভোটারবিহীন এই আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে, দিনের ভোট রাতে দিয়ে পৈচাশিক কায়দায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে। এই সরকার দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে বিরোধী দলের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে তারা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে তাদের গণতন্ত্র অধিকার ফিরিয়ে দিতে, দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তি, তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ বিভিন্ন দাবী নিয়ে আমরা মাঠে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাব। অবিলম্বে এই অবৈধ সরকারের পতন নিশ্চিত করে র্নিদলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রদানের দাবি জানান তারা। অন্যতায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে বৃহৎ আন্দোলনের মাধ্যমে গদি ছাড়া করা হবে বলেও হুঁসিয়ারি দেন তারা।