এজেএম আহছানুজ্জামান ফিরোজ, শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি : স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত‍্যয়ে সর্বদা দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তরসূরি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মানস কন‍্যা মমতাময়ী মা, দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে “রূপকল্প ভিশন -২০৪১” বাস্তবায়নের জন্য সর্বদা বাংলাদেশ মুজিব সৈনিক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি এবং যেতে চাই বললেন শেরপুর জেলা কৃষক লীগের সহ – সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছালাহ্ উদ্দিন ছালেম। আসন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন কে সামনে রেখে এসব কথা বলেন ছালাহ্ উদ্দিন ছালেম।

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে আগামী ১৬ নভেম্বর হতে যাচ্ছে শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষীক সম্মেলন। আর এ সম্মেলনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কাদের হাতে থাকবে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে আওয়ামী নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ, উদ্দীপনা,উদ‍্যেগ ও উত্তেজনা। গুনজন শুরু হয়েছে কে হবেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। আর এর মধ্যেই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও নবীন নেতারা নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করছেন। ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা উপজেলা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত জোর তদবির, লবিং ও গ্রোপিং করে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

১৬ নভেম্বরের এ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন জেলা ক‍ৃষক লীগের সহ – সভাপতি মো: ছালাহ্ উদ্দিন ছালেম। তিনি সকলের প্রিয় ছালেম ভাই নামে পরিচিত। তিনি একজন কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয় নেতা। দলের ত‍্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা কর্মীদের আশা -ভরসার আশ্রয়স্থল। তার কাছে দলের সকল স্তরের নেতা- কর্মীসহ নৌকা পাগল ভোটাররা মনের আবেগ – অনুভূতি, সুখ- দূ:খের কথা ব‍্যক্ত করে থাকেন। এ কারণে সকল পর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা ঈর্শ্বনীয়। তিনি দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগসহ সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পদে থেকে দলকে সুসংগঠিত করে চলেছেন।

ছালাহ্ উদ্দিন ছালেম জন্মগত ভাবেই আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তিনি উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাহার পিতা মৃত ভিক্ষু শেখ, মাতা মোছা: জুলেখা খাতুন। তার এক বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান দুলাল কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের কর্মী এবং অপর বড় ভাই আবুল হায়াত মো: জিয়াউর রহমান কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী রাজনীতিতে জরিয়ে পড়েন তিনি।

এ নিয়ে গত ১০ নভেম্বর এ প্রতিবেদক কে বলেন, আমি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শ্রীবরদী উপজেলা শাখার কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হই এবং শ্রীবরদী সরকারী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প‍্যানেলে প্রমোদ ও আপ‍্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলাম। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষক লীগ শ্রীবরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি । ২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শ্রীবরদী উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি।

এছাড়া ২০১৭ থেকে অদ‍্যাবধি কৃষক লীগ শেরপুর জেলার সহ- সভাপতি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী রাজনীতির চরম ক্রান্তিকালেও আমি বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। ১৯৯০ এর স্বৈরাচারী বিরোধী গণ আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হই। ১৯৯৬ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক মামলায় কারা বরণ করি। ১/১১ মিছিল মিটিং এ জোড়ালো ভূমিকা পালন করেছি। এ ছাড়া ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪৫, শেরপুর – ৩ (শ্রীবরদী – ঝিনাইগাতি ) আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন‍্যতম সদস্য হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছি।

সামাজিক অঙ্গনেও ছালাহ্ উদ্দিন ছালেম বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি কাকিলাকুড়া ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি। এ ছাড়া কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও গড়খোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের ম‍্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং গবরীকুড়া আকন্দ কলম আলী উচ্চ বিদ‍্যালয়ের ম‍্যানেজিং কমিটির সদস্য হয়ে এ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

শ্রীবরদী উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত ও ত‍্যাগী নেতা – কর্মীরা বলছেন ছালাহ্ উদ্দিন ছালেম ভাই শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে দলের সকল স্তরের নেতা – কর্মীরা মূল‍্যায়ন পাবেন এবং দল আরও শক্তিশালী হবে। তার মতো কর্মীবান্ধব নেতা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া প্রয়োজন।