শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সামনে রোগীরা বের হলেই বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলতে চলে টানাহেঁচড়া।দিন দিন তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। তাদের দৌরাত্ম্য হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। কোন কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন চিকিৎসক এটা দেখার জন্যই এ দুর্ভোগ।

রোগীরা মুমূর্ষু অবস্থায় থাকলেও এ চিত্র বদলায় না। কাজটা যারা করছে, তারা বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীর প্রতিনিধি। কোম্পানীগুলো তাদেরকে দিয়ে এই কাজটা করাচ্ছে। তাদের ভাষায় এটা প্রেসক্রিপশন মনিটরিং। কোন কোন চিকিৎসক তাদের কোম্পানীর ওষুধ লিখছে, এবং কি পরিমাণে লিখছে, সেটার “ডিজিটাল প্রুফ” দিতে হচ্ছে তাদেরকে কোম্পানীতে।

বুধবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রাস্তার উপর এ সকল চিত্র দেখা যায়। কথা হয় রোগি বিলকিছ বেগম (৩০) সঙ্গে, তিনি জানান, আমি অস্স্থু ডাক্তার দেখালাম হাসপাতালে বাহির হতে না হতেই কয়েকজন যুবক ঘিরে ধরে প্রেসক্রিপশনটা হাত থেকে নিয়ে নিলেন, এরপর তারা একের পর একজন ছবি তুলছেন। আমি অসুস্থ্য আমাকে দাঁড়িয়ে রেখে এভাবে প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলছে। আমার বিরক্ত লাগছে। কিন্তু আমি মহিলা মানুষ লজ্জায় কিছু বলতেও পারছিনা।

রোগী ফিরোজা বেগম (৩৫) জানান, যারা প্রেসক্রিপশনে ছবি তুলছে তারা রোগীর বিষয় নিয়ে কিছু ভাবছেন না। শুধু প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত।

ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা, লাভলু, মাহফুজ জানান, প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার কোন বাঁধা নেই। আর আমরা রোগীদের কোন বিরক্ত করছিনা। চাচ্ছি যারা দিচ্ছে তাদেরটার ছবি তুলছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তার জানান, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে দেখে কোন কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন। তাদের কোম্পানির ঔষধ না লিখলে তারা মোবাইলে কল করে তাদের ওষুধ লিখতে বলে। এতে তারা বিরক্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প: প: কর্মকর্তা সাজিদ হাসান লিংকন জানান, হাসপালের বাউন্ডারির মাঝে কোন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের থাকতে দেওয়া হয়না। তবে বাহিরে তারা কি করল সেটা তাদের বিষয়। এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি সপ্তাহে ৩ দিন ১টার পর ডা: ভিজিট করতে পারবেন।