বগুড়া অফিস : বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ মডেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৯টি ভোট কেন্দ্রের ১৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভোট কেন্দ্রে বলপ্রয়োগে নির্বাচন প্রভাবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ অবস্থায় সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা। এরইমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা ভোট গ্রহণের দিন পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন ।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার দশটি ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আর পঞ্চমধাপে ৫জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে গাড়ীদহ মডেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এতে মোট ১৯টি কেন্দ্রে ৩৬হাজার ৯১৩জন ভোটার ভোট দেবেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭জন, সাধারণ সদস্য পদে ৫৬জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোকাব্বর হোসেন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা তবিবর রহমান (চশমা), বর্তমান চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন (মোটরসাইকেল), ইসলামী আন্দোলনের র্ আব্দুল আলীম (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক (টেবিল ফ্যান), আশরাফ উদ্দিন সরকার ভোলা (আনারস) ও জাহাঙ্গীর আলম (ঘোড়া)।

এরমধ্যে তিনজন প্রার্থীর অভিযোগ, মোট ১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ১৪টি কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে প্রভাবশালী প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে তাদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের নানা হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি ভোটকেন্দ্রে যেতে তাদের নিষেধ করা হচ্ছে। তাই ওইসব ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হলো-সামিট স্কুল এন্ড কলেজ, মহিপুর কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়, মহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাপুনিয়া মহাবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত তিনটি ভোটকেন্দ্র, কানুপুর দাখিল মাদ্রাসা, গাড়ীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাড়ীদহ পাবলিক স্কল, ফুলবাড়ী হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, কালশিমাটি উচ্চ বিদ্যালয়, চকপাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাফুড়া বালিকা সমবায় দাখিল মাদ্রাসা। পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সোমবার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কথা হয় সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের সঙ্গে। এরমধ্যে জয়নগর গ্রামের ফরিদ উদ্দিন, হাপুনিয়া গ্রামের ফারুক হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, শুনছি ভোটকেন্দ্রে গন্ডগোল হবে। তাই ভোট দিতে যাব কী-না ভাবছি। দেখি যদি পরিবেশ ভাল দেখি, তাহলে ভোট দিতে যাব। আর ভোট দেওয়ার আগেই যদি ফলাফল নিশ্চিত হয়ে যায়, তাহলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন কেন্দ্রে যাব?।

গাড়ীদহ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দবির উদ্দিন সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার দলীয় লোকজন সাধারণ ভোটারদের নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। কেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. আছিয়া খাতুন বলেন, সবাই নির্বিঘ্নে যাতে ভোট দিতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা হবে। তাই সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই।