শরীয়তপুর প্রতিনিধি : পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র ভারত সফর নিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের বিষয়ে বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থকে মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধু’র কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে ৭টি সফল সমঝোতা চুক্তি করেছেন। দেশের স্বার্থ বিরোধী কোন চুক্তিই শেখ হাসিনা করেন নাই, করেনও না। তাঁর ভারত সফরের সব চুক্তিই দেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখেই করা হয়েছে। গঙ্গা চুক্তি ও কুশিয়ারা চুক্তি তিনিই করেছেন। আর তিস্তা চুক্তিও জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ করতে পারবে না।

আজ শনিবার দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচর ইউনিয়নে বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা, ঢেউটিন ও চেক বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া ৭টি সমঝোতা চুক্তির মধ্যে অন্যতম কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদী থেকে রহিমপুর খাল দিয়ে ১৫৩ কিউসেক পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলায় শুকনো মৌসুমে চাষাবাদে আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। একইসঙ্গে উপকৃত হবেন কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলার লক্ষাধিক কৃষক। এছাড়াও এ খালের ভাটিতে থাকা হাওরাঞ্চলেও বোরো চাষাবাদ সম্ভব হবে।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সোহেল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাজিরা উপজেলা চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর অঞ্চলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম, তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল আলম, শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব, জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইদ্রিস মাদবর, আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সদস্য জহির সিকদার, পালেরচর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় উপ-মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক কেএম ফারুক হোসেন মুন্না প্রমূখ। এ ছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০টি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল ও ২ হাজার করে টাকা দেন এবং ২৫টি পরিবারকে ২ বান্ডিল করে টিন ও ৬ হাজার করে টাকা দেন উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম।

পরে তিনি জাজিরার নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, পরিদর্শন ও পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধের চলমান কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে শরীয়তপুরের জাজিরায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি প্রকল্প চলমান থাকলেও, নদীভাঙন রোধে যা যা করণীয় তা করার নির্দেশ দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। পরিদর্শন শেষে উপমন্ত্রী নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগদান করেন।