আবুল কাশেম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : জেলার শাহজাদপুরে উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত নৌ-বন্দর ও পদ্মা-মেঘনা-যমুনার বাঘাবাড়ি তেল ডিপোর পাশে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাত ১১ টার দিকে।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর ও অয়েল ডিপোর প্রধান ফটকের ১০০ মিটার উত্তরে ওয়ান ব্যাংকের পার্শ্বে ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে যোগাযোগের ভিত্তিতে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও বেড়া ফায়ার সার্ভিসের মোট সাতটি ইউনিট একযোগে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয় কিছু লোকের সহযোগিতা নিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

জানা যায়, আগুন লেগে পুড়ে যাওয়া প্রতিটি দোকান ও গোডাউনে প্রচুর পরিমাণ দাহ্য জাতীয় পদার্থ যেমন, ব্যাটারি, পেট্রোল, মবিল, ডিজেল, অকটেন, গ্যাস সিলিন্ডার, টায়ার মজুদ করে রাখা ছিল, যার অধিকাংশই অবৈধভাবে মজুদ রাখা বলে অনেকেই ধারণা করেন।

ইউনুস আলী নামের স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, রুমী মটরস নামের একটি দোকান ও তেলের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে পাশের রঞ্জু ইঞ্জিনিয়ারিং, রয়েল ব্যাটারি, একটি টায়ারের গোডাউন ও পাশের ইসরাফিল নামের একজনের বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি দোকান দাহ্য পদার্থের হওয়ার ফলে আগুন ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পরে।

এ সময় গোডাউনের পাশে রাখা একটি তেলের ট্যাঙ্ক ও ২টি পিকআপ ভ্যানে আগুন লেগে যায়। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দোকান মালিকরা নিঃস্ব হয়ে গেছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবী করে। ফায়ার সার্ভিসের পাবনা ও সিরাজগঞ্জ রিজিয়ন সহকারি পরিচালক দুলাল মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে রাত আনুমানিক পৌনে ১২টায় প্রথমে বাঘাবাড়ি ফায়ার সার্ভিস ও শাহজাদপুর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এরপর উল্লাপাড়া ও বেড়ার ফায়ার সার্ভিসসহ মোট ৭টি ইউনিট অগ্নি নির্বাপণে কাজ করেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি হওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, মবিল, ব্যাটারি ও টায়ারের দোকান হওয়ার কারণে আগুন নেভাতে দেরি হয়েছে। রুমি মটরস্’র ফায়ার লাইসেন্স করা আছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে এবং আশপাশের বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে এই এলাকায় প্রায় শতাধিক দাহ্য জাতীয় পদার্থের দোকান রয়েছে সেগুলোকেও দোকানকে নজরদারির আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, বাঘাবাড়ির আগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে একটি নৌ-বন্দর ও পদ্মা-মেঘনা-যমুনার অয়েল ডিপো এবং মিল্ক ভিটা অবস্থিত। কিন্তু, আশপাশে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় শতাধিক তেলের দোকান ও গোডাউন রয়েছে।