শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ও চিকন্দী ইউনিয়নের ৬টি বাড়িতে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে বসতঘর, রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও খেরের পাড়া পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে রাত ৪টার মধ্যে চিকন্দী ইউনিয়নের ছোট সন্দীপ ও আবুড়া গ্রামে এবং বিনোদপুর ইউনিয়নের ঢালীকান্দি ও কাচারীকান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

আগুন লাগানোর পুর্বে দুর্বৃত্তরা বসত ঘরের বাহির থেকে বন্ধ করে রাখে। আগুন নেভানোর পানির সংকট সৃষ্টির লক্ষ্যে নলকূপের ভেতরে ময়লা ঢুকিয়ে রাখে ও টিউবওয়েলের হাতল খুলে নিয়েছে অনেক বাড়ির। এই সময় দুইটি বাড়িতে চুরির ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পৌছলেও তার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। তবে এই বিষয়ে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি পুলিশ। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্থদের সুত্রে জানা গেছে, চিকন্দী ইউনিয়নের ছোট সন্দীপ গ্রামের আঃ রব খানের দুইটি রান্নাঘর ও একটি খেরের পাড়া আগুনে পুড়ে গেছে। পুড়ে গেছে তার ছেলে উজ্জাল খানের বসত ঘরের অংশ বিশেষ।

প্রতিবেশী শুকুর বেপারীর খেরেরপাড়াও পুড়েছে আগুনে। পার্শ্ববর্তী আবুড়া গ্রামের আলী মোড়লের রান্নাঘর ও খেরেরপাড়া পুড়েছে দুর্বৃত্তের আগুনে। বিনোদপুর ঢালী কান্দি গ্রামের জামাল খার গোয়ালঘর, রান্নাঘর ও বসতঘরে আগুন দিয়েছে রাত ২টার দিকে। আগুনে দুইটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে।

প্রতিবেশীরা আগুন নেভাতে আসলে এই ফাঁকে চান মিয়া হাওলাদার ও ইদ্রিস শেখের ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়ে যায়। রাত সারে ৩টার দিকে বিনোদপুর কাচারীকান্দি গ্রামের চুন্নু মোল্যার গোয়ালঘরে আগুন দেওয়া হয়। বাড়িতে পুরুষলোক না থাকায় সেখান থেকে কিছুই রক্ষা যায়নি। সেই গ্রামের হুমায়ন মোল্যার খেরের পাড়ায়ও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুনের সঠিক কারণ বা উৎস সম্পর্কে কোন ধারণা দিতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও স্থানীয়রা।

শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন বলেন, আগুনের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে যায়। এর পূর্বেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আক্তার হোসেন বলেন, ওই এলাকায় অনেকদিন ধরে দুইটি পক্ষ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাড়িঘরে ভাংচুরসহ মারামারি করে আসতেছে। এই অগ্নিকান্ডও আধিপত্য বিস্তারের কোন কৌশল হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।