শেখ মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি : শরণখোলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি জবর দখলের অভিযোগ করেছেন হাওয়া বেগম নামের এক নারী। প্রতিপক্ষের রুহুল হওলাদারের নেতৃত্বে ১০-১২জন গিয়ে লোকজনকে মারধর করে বাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে বাড়িটি দখল করে নেয়।

রোববার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে শরণখোলা প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার পরিবার। জবর দখলের এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের মালিয়া রাজাপুর গ্রামে।

হাওয়া বেগমের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে ভোগদলীয় সম্পত্তির মধ্য থেকে ১০ শতক জমি আক্কেল আলী হাওলাদারের ছেলে প্রতিপক্ষের রুহুল হাওলাদার দাবি করে আসছে। অথচ দাবিকৃত জমির কোনো দলিল বা কাগজপত্র নেই তাদের। তার পরও বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে দখলের চেষ্টা চালায় তারা।

হাওয়া বেগম বলেন, ঘটনার দিন (১৮ ডিসেম্বর-২০২২) আমার স্বামী নান্না মিয়া হাওলাদার বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে প্রতিপক্ষরা বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরে আমার মেয়ে রিমা আক্তারকে নিয়ে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় রুহুল হাওলাদারের নেতৃত্বে তার ভাই আফান হাওলাদার ও ভাইয়ের ছেলেরা মিলে ১০-১২জন এসে আমাদের ঘরে উঠে গালাগাল করতে থাকে এবং আমার মেয়েকে সামনে পেয়ে মারধর শুরু করে। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকেও মারতে উদ্যত হয়। একপর্যায়ে আমাদেরকে ঘর থেকে জোর করে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি দখল করে নেয়। বর্তমানে রুহুলের ভাই আফান হাওলাদার আমাদের ঘরে বসবাস করছে। এব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে নালিশ করেও বিচার পাইনি।

এ ব্যাপারে দখলকারী আফান হাওলাদার বলেন, আমাদের ঘর নান্না মিয়া ও হাওয়া বেগমের মেয়ে-জামাইকে ভাড়া দিয়েছিলাম। ঘর মেরামতের জন্য তাদেরকে ঘর থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই জমি আমাদের। আমরা কারো জমি দখল করিনি।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নুরুল ইসলাম বলেন, প্রথম থেকেই জেনে আসছি এই জমি নান্না হাওলাদার ও তার স্ত্রী হাওয়া বেগমের। জমিতে ঘর তুলে তাদের মেয়ে-জামাইকে দিয়েছে। তারা ধীঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে সেখানে। সেই ঘর এখন দখল করে রুহুল হাওলাদারের ভাই আফান হাওলাদার বসবাস শুরু করেছে।