অনাবৃষ্টি ও অব্যাহত খরায় পানির অভাবে আমনের বীজতলা বিনষ্ট হয়েছে। জমি চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা। ছবিটি বৃহস্পতিবার সকালে তোলা। ছবি: প্রতিনিধি

শেখ মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি : শরণখোলায় মৌসুমের শেষের দিকে এসেও আমন চাষাবাদ করতে না পারায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পানির অভাবে বীজতলায় ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অব্যাহত খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে এমন অবস্থা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ঘুরে কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, জৈষ্ঠ্য আষাঢে কাংখিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলের মাঠে পানি জমেনি। পানির অভাবে আমনের বীজতলার মাটি ফেটে চৌচির হয়েছে বিবর্ণ হয়েছে ধানের চারা।

লাকুড়তলা গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান, মধ্য খোন্তাকাট গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান মুন্সি, বকুলতলা গ্রামের এনাম মীর, সোনাতলা গ্রামের নূরইসলাম এবং উত্তর সাউথখালী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমানসহ অনেক কৃষক বলেন, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বীজতলা শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। মাঠে পানি না থাকায় জমিতে লাঙ্গল দেয়া যাচ্ছে না। এভাবে আবহাওয়া আর কয়েকদিন থাকলে এবছর আমন উৎপন্ন না হওয়ার আশংকা ব্যক্ত করেছেন ঐ কৃষকরা।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন মুক্তা বলেন, পানির অভাবে গ্রামাঞ্চলের মাঠ শুকনো থাকায় কৃষকরা জমি চাষ করতে পারছেননা। কৃষকের আগাম তৈরী করা বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।

শরণখোলা উপজেলা কৃষি অফিসার দেবব্রত সরকার বলেন, এ বছর শরণখোলায় ৯২৫০ জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং এজন্য উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ৬৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে চাষাবাদ বিলম্বিত হলেও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হলে আমন চাষে তেমন বিরুপ প্রভাব পড়বেনা। পানির অভাবে ২০ ভাগ জমির আমন চাষ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে ঐ কৃষি অফিসার জানান।