পোকায় নষ্ট করা ধান গাছ দেখাচ্ছেন কৃষক মোতালেব গাজী। ছবি: প্রতিনিধি

শেখ মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি : শরণখোলায় আমন খেতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পোকা ধান গাছের শিষ কেটে দিচ্ছে। দিশেহারা কৃষকরা বাজার থেকে কীটনাশক কিনে খেতে স্প্রে করেও কোন ফল পাচ্ছেনা। কৃষি বিভাগের কোন কার্যক্রম নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের।

সরেজমিনে উপজেলার গোলবুনিয়া, হারানঘাটা, মঠেরপাড়, খাদা, কদমতলা ও সোনাতলা গ্রাম ঘুরে জানা যায়, গত এক পক্ষকাল ধরে আমন ধান খেতে হঠাৎ করে শীষকাটা মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। গোলবুনিয়া গ্রামের কৃষক নুরুল হক তালুকদার, মোতালেব গাজী, মামুন হাওলাদার, হারানঘাটা গ্রামের কৃষক নান্না মিয়া হাওলাদার, খাদা গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন আকন বলেন, মাজরা পোকা ধান গছের শিষ কেটে দেওয়ায় গাছ লাল হয়ে নষ্ট হচ্ছে। বাজার থেকে কীটনাশক কিনে ধান খেতে স্প্রে করা হলেও পোকা মারা পড়ছে না। অচিরে পোকা দমন করা না গেলে আমন ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে বলে ঐ কৃষকরা আশংকা ব্যক্ত করেন।


নষ্ট হওয়া ধানক্ষেত ও ধানক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন কৃষক

পোকা দমনে উপজেলা কৃষি বিভাগের কোন কার্যক্রম নেই জানিয়ে বর্গা কৃষক আবু রাজ্জাক আকন ও শামিমুল আহসান কচি তালুকদার বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের কোন খোঁজ খবর নেয়না বলে তারা অভিযোগে বলেন।

শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, শরণখোলায় এবছর ৯ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ৫০ হেক্টর জমিতে মাজরা পোকা লেগেছে। পোকা দমনে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ উপজেলায় ১২ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিপরীতে ২ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। ১০টি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পদ খালি থাকায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাংখিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।