বুধবার সকালে শরণখোলা প্রেসক্লাবে প্রতারণার শিকার পোশাক শ্রমিকদের সাংবাদিক সম্মেলন।

শেখ মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি : অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে শরণখোলার শতাধিক পোশাক কর্মীর কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কথিত রূপসা মাল্টিপারপাস কোম্পানি। ঐ কোম্পানীর কর্মকর্তারা এখন গা-ঢাকা দিয়েছেন। এমন অভিযোগে বুধবার (৩ আগষ্ট) সকালে শরণখোলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

বুধবার সকাল ১০টায় শরণখোলা প্রেসক্লাবে উপস্থিত প্রতারনার শিকার ২১ জন নারী-পুরুষ পোশাক শ্রমিকের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে শরণখোলার পোশাক শ্রমিক বেল্লাল হোসেন বলেন, প্রতারণার শিকার শরণখোলার বাসিন্দা সবাই চট্টগ্রামে বিভিন্ন পোশাক কারখানার (গার্মেন্ট) শ্রমিক।

২০১৮ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে মো. মুজিবুর রহমান কোম্পানির চেয়ারম্যান পরিচয়ে চট্টগ্রামের সিইপিজেড মোড়ের চৌধুরী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অফিস ভাড়া নিয়ে রূপসা মাল্টিপারপাস কোম্পানির কার্যক্রম শুরু করেন।

তার সহযোগি হিসেবে শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের বাবুল খানের ছেলে মো. নাঈম খান কোম্পানির ইউনিট ম্যানেজার এবং তার ভগ্নিপতি মঠবাড়িয়া উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া বাজারের হাকিম বেপারীর ছেলে মো. আলমগীর বেপারী কোম্পানির প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা পরিচয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত শরণখোলার শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের আমানত সংগ্রহ করেন।

অধিক লাভের প্রলোভনে পড়ে কেউ দেড় লাখ, দুই লাখ থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ওই কোম্পানিতে দীর্ঘ মেয়াদী, স্বল্প মেয়াদী, এককালিন আমানত, এফডিআর, ডিপিএসসহ বিভিন্ন প্যাকেজে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রাখেন। এখন জমাকৃত টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে লাভতো দূরের কথা আসল টাকাও পাচ্ছি না।

এভাবে পোশাক শ্রমিক রিমা বেগম, পারভীন আক্তার, মজিবর রহমান, আ. রহিম, নাজরিন বেগম, ফোরকান, ডলি বেগম, দেলোয়ার হোসেন, কুলসুম বেগম, জলিল শরীফসহ শতাধিক পোশাক শ্রমিকের কাছ থেকে প্রতারকরা প্রায় আড়াই কোটি টাকা আলমগীর ও নাইম হাতিয়ে নেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

কোম্পানির চেয়ারম্যানসহ সবাই এখন আত্মগোপনে। তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় কষ্টের উপার্জন হারিয়ে শত শত শ্রমিক পথে পথে ঘুরছেন। প্রতারকরা শ্রমিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা দিয়ে শরণখোলায় জমি কিনে আলীশান বাড়ী করেছেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগে বলা হয়েছে।

কথিত রূপসা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ইউনিট ম্যানেজার মো. নাঈম খান মুঠোফোনে জানান, তিনি এই কোম্পানির একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন। টাকা পয়সা লেনদেনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

কোম্পানীর চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান এবং প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর বেপারীর মোবাইল ফোনে কল করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।