ঝালকাঠিতে হানিফ বাংলাদেশী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলীপি প্রদান করছেন। ছবি: প্রতিনিধি   

কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে মাথায় প্রতীকী গণভোটের বাক্স নিয়ে ঝালকাঠিতে পৌঁছেছেন হানিফ বাংলাদেশি (৩৫)। জেলায় পদযাত্রা করে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন তিনি। নোয়াখালীর বাসিন্দা হানিফ গত ২৪ অক্টোবর কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে এই প্রচারণা শুরু করেন। ২৯ জেলা ঘুরে তিনি আজ বুধবার আসেন ঝালকাঠি।

হানিফ বলেন, তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি নিয়ে ফাঁকে ফাঁকে এই ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন। দেশের ৬৪ জেলা ঘুরবেন এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর তাঁর দাবির সপক্ষে স্মারকলিপি প্রদান করবেন।

নাগরিকদের নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিসংবলিত ফেস্টুন গলায় ঝুলিয়ে এবং মাথায় প্রতীকী ভোটের বাক্স নিয়ে জেলা সদরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দাবির সপক্ষে জনমত গড়ছেন তিনি। তাঁর ৬৪ জেলা পরিভ্রমণ কর্মসূচির ৩৬তম দিন ঝালকাঠি।

বুধবার ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্বারকলিপি দিয়ে প্রেসক্লাব ও জেলা শহরে পদযাত্রা করে মানুষের গণমত সংগ্রহ করেছেন হানিফ বাংলাদেশী। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী স্মারকলীপি গ্রহন করেন।

কর্মসূচি সম্পর্কে আজ সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সামনে হানিফ বাংলাদেশির বক্তব্য রাখেন।

এ সময় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত দেশের সংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত হলো ভোটাধিকার। স্বাধীনতার ৫০ বছর যাবৎ যে দল যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, সে দলই কমবেশি ভোটাধিকার, গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করেছে। আজকের যে পরিস্থিতি, তা এক দিনে তৈরি হয়নি। সব শাসকদলের অপরাজনীতি এই চরম অবস্থা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন তিনি।

হানিফ বাংলাদেশি নোয়াখালী জেলার আবদুল মান্নানের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। দুই মাসের ছুটি নিয়ে তিনি দেশের ৬৪ জেলায় পদযাত্রা শুরু করেছেন।

হানিফের মতে, এই ভয়াবহ অবস্থার উত্তরণ ও এক দিনে সম্ভব নয়। রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি প্রতিহিংসা থেকে সহিংসতাপরায়ণ, অবিশ্বাসের সংস্কৃতি চলমান। প্রশাসনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারাও কোনো না কোনো দলের আনুগত্য পোষণ করে চলেন। সে জন্য রাজনীতিতে অবিশ্বাসের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই অবিশ্বাস ও আস্থা সংকটের কারণে কয়েকবার অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছে এবং উচ্চ আদালত সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বাতিল করেছে।

একটি গণতান্ত্রিক দেশে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বেশি দিন চলতে পারে না। কারণ, অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাজনীতিকদের জন্য বড় লজ্জাজনক। হানিফ মনে করেন, দেশে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে রাজনীতিকেরা ব্যর্থ হয়েছেন। রাজনীতিতে যে আস্থার সংকট তার জন্য তাঁরাই দায়ী।

এখন জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বিঘ্ন ভোট দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই সঙ্গে একটি শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সংবিধানের যে আইনের কথা বলা আছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সেই আইন প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।

সারা দেশে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে জনগণের মাঝে ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। এ সময় হানিফ বাংলাদেশির দাবির প্রতি সমর্থন জানান উপস্থিত সাধারণ মানুষ।

এর আগেও নানা দাবিতে তিনি অভিনব সব কর্মসূচি পালন করে গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন হানিফ বাংলাদেশি।