আরফাত বিপ্লব, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চলছে জমজমাট হুন্ডিব্যবসা। এখানে হুন্ডি ব্যবসার প্রসারতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগর এলাকাসহ হুন্ডি ব্যবসায় জড়িতদের যোগসাজশে লোহাগাড়ায় প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়।

জানা যায়, একটি মহলের ছত্রছায়ায় চক্রটি হুন্ডি ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ উপজেলার সব গ্রামের কমবেশি লোক রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। সেখানে তারা চাকুরী বা বাণিজ্য করে থাকেন। এদের অধিকাংশ গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠান হুন্ডির মাধ্যমে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রেরকের টাকা প্রাপকের হাতে ত্বরিত পৌঁছানোর জন্য হুন্ডির মাধ্যমে পাঠায় বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

লোহাগাড়া উপজেলার দরবেশহাট, বড়হাতিয়া, বটতলী ষ্টেশন, পশ্চিম আমিরাবাদ, পদুয়া, ঠাকুরদিঘী, চুনতি, সাতগড়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোবাইল কার্ডের দোকান, জুয়েলারী ও মুদীর দোকানে এ হুন্ডির ব্যবসা চলে। বিশেষ করে বটতলী মোটর ষ্টেশনের দরবেশহাট রোডস্থ কতগুলো জুয়েলার্স ও কাপড়ের দোকান হুন্ডি ব্যবসায়ীদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

বৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের নানা গড়িমসি, ঘুষ দাবী, হয়রানী ও টাকা পেতে বিলম্বের কারণে অধিকাংশ প্রবাসী অবৈধ পন্থায় টাকা প্রেরণ করে থাকেন।

নাম প্রবকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারী ব্যাংকের লোহাগাড়া শাখার ব্যবস্থাপক বলেন, হুন্ডি ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের ব্যাংকের চেয়ে বেশি রেটে টাকা পৌঁছিয়ে দিতে পারেন। ফলে প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও লোকজন সেদিকে ঝুঁকছে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ রেটে গ্রাহকের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে পারলেই এ ব্যবসা প্রতিরোধ সম্ভব।