কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক ও কর্মকর্তা কর্মচারির চরম অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত মুনাফার লোভে অগ্নিকাণ্ডে এতো মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে নদী নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা নোঙর বাংলাদেশ নামে একটি সামাজিক সংগঠন।

বুধবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। যাত্রী নিরাপত্তা ও জাতীয় নৌ নিরাপত্তা দিবসসহ ১৬ দফা দাবি জানিয়ে তাঁরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে নোঙর বাংলাদেশের গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক সুমন শামস দাবি করেন, বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের ঘটনায় নোঙর বাংলাদেশের তদন্ত দল গত দুইদিন ধরে পুড়ে যাওয়া লঞ্চ, অগ্নিদগ্ধ মানুষ, নিহতদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সংগঠনটি অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় লঞ্চের মালিক ও কর্মকর্তা কর্মচারীর চরম অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এতো মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন। এর দায়ভার নৌ কর্তৃপক্ষ কোনভাবে এড়াতে পারেন না।

এ ঘটনায় জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনারও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে আরও ৭ দিন সময় লাগবে বলে জানান তদন্ত কমিটির আহবায়ক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান ১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে পুড়ে দগ্ধ ও নদীতে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। যা কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।

এ দুর্ঘটনা সারাদেশের মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কেন বারবার নৌ দুর্ঘটনা ঘটছে? এর পেছনে কারা জড়িত? সমাধানের উপায় কি? এ পরিস্থিতির পরিবর্তন করা জরুরী বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাধীনতার ৫০ বছরের বিভিন্ন সময় নদীতে দুই হাজার ৫৭২টি নৌ দুর্ঘটনায় ২০ হাজার ৫০৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছে শত শত মানুষ। অস্থাবর সম্পদ ধ্বংস হয়েছে প্রায় তিন হাজার ৪১৭ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি। এই বিপুল পরিমান অর্থ ও জনসম্পদ হারানো দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৫৬৫টি নৌ দুর্ঘটনার বিপরীতে ৮৬৩টি তদন্ত কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন করে প্রতিবেদন জমা দিলেও সেগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। তেমনি এগুলোর কোন সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। এ অবস্থায় ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান ১০ লঞ্চে আগুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি মুক্ত ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন নোঙর বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ।

মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে তিনটি লঞ্চ দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ২৩ মে এই দিনটিকে নৌ দুর্ঘটনা ও জাতীয় নৌ নিরাপত্তা দিবস ঘোষণার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মিহির বিশ্বাস ও সদস্য সোহাগ মহাজন, এম এ কে জিলানী, শফিকুল ইসলাম শামীম, সজল দেব বর্মণ, পরাগ আজিম, রাসেল জমাদ্দার, ফজলে সানিএফ এইচ সবুজ, মো. হুমায়ুন কবির, আবির বাঙালী, মীর মোকাদ্দেস আলী ও পলাশ উপস্থিত ছিলেন।