লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে চাঞ্চল্যকর মমিন উল্যা হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন ও একটি মাদক মামলায় একজনের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পৃথক আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম পৃথক মামলার রায়ে তিনজনের বিরুদ্ধে এ রায় প্রদান করেন।

আদালতের রায়ে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মোহন ও তারেক। তাদের উভয়ের বাড়ি সদর উপজেলার বশিকপুর এলাকায়। এদিন রায়ের সময় আসামি মোহন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অপরদিকে মাদক মামলায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি টেকনাফের সোনা পাড়ার পূর্ব আপানখালি এলাকায়।

লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন রায়ের বিষয় নিশ্চিত করে বিচারে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৭ জুলাই সদর উপজেলার বিজয়নগর গ্রামে মমিন উল্যা (২৩) নামে এক সিএনজি চালকের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

জানা যায়, সিএনজি ভাড়া করে উক্ত স্থানে আসামিরা তাকে গলায় রশি লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সিএনজিটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার সিএনজিটি লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার রেহান উদ্দিন ভুঁইয়া সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত মমিনের পিতা সুলতান আহম্মদ বাদি হয়ে পরদিন ২৮ জুলাই সদর থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি আদালতে মোহন ও তারেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এতে আসামিরা ভিকটিমকে গলায় দড়ি লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর ১২ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

অপরদিকে, এ হত্যা মামলার ২ নং আসামি তারেকের আইনজীবী আফরোজা ববি জানান, তার মক্কেল ন্যায় বিচার পাননি, আসামিপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট নন। ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

এদিকে, একই আদালত পৃথক একটি মাদক মামলায় গিয়াস উদ্দিন নামে এক মাদক কারবারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

আসামি গিয়াস কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার সোনাপাড়া এলাকার পূর্ব পানখালী গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর পুলিশ গিয়াসকে সদর উপজেলার দালালবাজার থেকে আটক করে। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পেটের ভেতর থেকে এক হাজার ১২৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে।

আদালত তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন বলে জানান জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন।