নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সড়কে নির্বিচারে ছাত্র হত্যা, গণমানুষের অধিকার কেড়েনেয়া সর্বোপরি রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকিতে তখন ছাত্ররা অবশ্যই রাজপথে নামতে বাধ্য। আমাদের মতো গণতন্ত্রহীন দেশে রাজপথও ছাত্রদেরকে গণমানুষের অধিকার আদায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলে। রাজপথ ছাত্রদের সমাজের প্রয়োজনে নিজেদের উৎসর্গ করার নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে। রাষ্ট্র মেরামতের প্রয়োজনে ছাত্ররাই রাজপথে নামবে।

সড়কে মানুষ হত্যা ও নির্বাচনের নামে নৈরাজ্য বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায় সঙ্গত ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা মহানগর জেএসডির সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব এসব কথা বলেন।

রব আরো বলেন, বাঙালির ইতিহাসে অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্ররাই আন্দোলনের সূচনা করেছে। এদেশে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের ঐতিহাসিক ও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে ছাত্র আন্দোলন। সুতরাং বৈষম্যহীন মানবিক ও নৈতিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রামে ছাত্রদেরও অংশগ্রহণ করতে হবে। গত কয়েক বছরের ছাত্র আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য থেকে পরিলক্ষিত হচ্ছে,যে অদূর ভবিষ্যতে তাদের ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামত’ তথা ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তাসহ শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনে অনুঘটক এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে ছাত্র সমাজ। ছাত্রদের ১১ দফা দাবি দ্রæত বাস্তবায়ন করতে হবে।

আ স ম রব আরো বলেন, নির্বাচনী নাটকের নামে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্র মানুষ হত্যার আয়োজন করতে পারে না। সকল মানুষের নিরাপদ জীবন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিদ্যমান ’রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা’ সবচেয়ে বড় অন্তরায়। এই শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তন করে জনগণের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। সকল মানুষের ন্যায় সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার উপযোগী রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে।

জেএসডি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, সারাদেশে যেভাবে হত্যা-নৈরাজ্য অব্যাহত আছে তাতে যে কোন সময় গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে-পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তার থেকে উত্তরণ কোন দলীয় সরকার এর পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সর্বস্তরের জনগনের অংশীদারিত্ব ভিত্তিক জাতীয় সরকার গঠন জরুরী হয়ে পড়েছে।

আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গনে ঢাকা মহানগর উত্তর জেএসডি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবুল মোবারক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেএসডি’র কার্যকরী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিরাজ মিয়া, সহ-সভাপতি মিসেস তানিয়া রব, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম জাবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, শ্রমিক জোট সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ ইউসুফ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি তৌফিকুজ্জামান পীরাচা প্রমুখ।