ফাইল ছবি

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর রাণীনগরে নির্বাচনী প্রচার শুরুর প্রথম দিনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার মাইক ভাংচুর, মারপিট ও বাধা প্রদানের অভিযোগ ওঠেছে নৌকা প্রতিক প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার কাশিমপুর এবং গোনা ইউনিয়নে এ দুইটি অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী কাশিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু জানান,বুধবার প্রতিক বরাদ্দ পেয়ে সন্ধ্যার দিকে তার সমর্থক-কর্মীরা আনারস মার্কার পোষ্টার এবং মাইক দ্বারা প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এ সময় কুজাইল বাজারে পৌঁছলে ওই ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন ও সময়র্থকরা ১০/১৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে ভোটের প্রচারাভিযানের মাইক ভাঙ্গচুর চালায়।

এ ছাড়া চকমুনু গ্রামের গ্রামীন ব্যাংকের সামনে প্রশিকার মোড়ে হেলমেট পরিহিত দুই মোটরসাইকেল যোগে অজ্ঞাত লোকজন এসে পোস্টার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ওই রাতে ইউনিয়নের কুবরাতলী বাজার থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত লাগানো সকল পোস্টার ছিঁড়ে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার লক্ষে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ ছাড়া একই দিন গোনা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল আরিফ রাঙ্গার ঘোড়া প্রতিকের প্রচার মাইক ভাংচুর ও প্রচার গাড়ী চালককে ধরে বেদম মারপিট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে কাশিমপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আলমগীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,স্বতন্ত্র প্রার্থী মকলেছুর রহমান বাবুর প্রচার মাইক নির্দিধায় চলছে। মকলেছুর রহমান বাবু চেয়ারম্যান পদে আছেন এবং পাশা-পাশি বিদেশে লোক পাঠানোর নামে অনেক লোকজনের সাথে টাকা-পয়সা নিয়ে ঝামেলা আছে। এর জের ধরে অন্য কেউ ভাংচুর কাজ চালিয়েছে।

গোনা ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী আবদুল খালেক বলেন, আমার কোন লোকজন মারপিট বা ভাংচুর করেনি। যে লোকটাকে আহত দেখাচ্ছে সে লোক গত ৪/৫দিন আগে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় আহত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী রাঙ্গার লোকজন নিজেরাই মাইক ভাংচুর করে আমার ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, এ ধরনের অভিযোগের কারণে প্রার্থীদেরকে ডেকে সর্তক করে দিয়েছি। কোন প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।