কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির রাজাপুর থানা ১৯৭১ সালের ২৩ নভেম্বর হানাদার মুক্ত হয়। ওই দিনের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও হোসেন আলী নামের স্থানীয় দুই মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়াও সম্মুখযুদ্ধে আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে বিশজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধাদের অসিম সাহসিকতার ফলে এ অঞ্চলের মধ্যে সর্বপ্রথম শত্রুমুক্ত হয়েছিল রাজাপুর। দেড়যুগ ধরে প্রতি বছর এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে রাজাপুর প্রেসক্লব।

রাজাপুর হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে রাজাপুর প্রেসক্লাব এবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় (২৩ নভেম্বর) বুধবার সকাল ১.০০টায় রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে মাঠে “গল্পে গল্পে শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ” শীর্ষক শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রাজাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান খান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি এই অঞ্চলের মুজিব বাহীনির প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুর হোসেন তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে রাজাপুর পাক হানাদার মুক্ত হওয়ার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন রাজাপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ্র, বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারিগন। দিনটি উপলক্ষ্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমন্ডের আয়োজনে র‌্যালি ও আলোচনা সভা সকাল ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধা মিলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ মনিরুজ্জামান। প্রধান আলোচক হিসেবে আলেচনায় অংশ নেন জেলা পরিষদের সদস্য উপজেলা আলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এইচ এম খায়রুল আলম সরফরাজ। এসময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দ্র উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেক্ষ্য, ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমন চালায়, শুরু হয় গুলি-পাল্টা গুলি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাতভর যুদ্ধের পরে হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ২৩ নভেম্বর সকালের দিকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এতে বরিশাল বিভাগের ৯নং সেক্টরের মধ্যে ঝালকাঠির রাজাপুর থানা সর্বপ্রথম পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়। ৯নং সেক্টরের মধ্যে সর্ব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় রাজাপুরে। দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বরণে উপজেলা সদরের স্মৃতিসৌধে পুস্পার্ঘ অর্পন ও সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।