এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে এসে মারপিটের স্বীকার হয়েছেন তানভির আহম্মেদ জয় (৩৫) নামের এক ব্যাক্তি। বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের বিপরীতে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী তানভির আহম্মেদ জয় রাজবাড়ীর পাংশা যশাই ইউপির চর দূর্লভদিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করে কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক প্রবীর বড়ূয়া বলেন, তার অফিস বা কম্পাউন্ডের মধ্যে এমন কোন ঘটনা ঘটে নাই। তাছারা কেউ কোন অভিযোগও করেন নাই। যে সকল গ্রহিতরা আসে, তাদের সাধ্যমত সেবা দেবার চেষ্টা করেন।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি শাহাদত হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনছেন। এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান পিয়াল বলেন, তিনি আলাদীপুর পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে মার্কেটে গিয়ে চা পান করছিলেন। হঠাৎ সে সময় দেখেন একটি ছেলের কর্লার ধরে মারতে মারতে নিয়ে আসছে কয়েকজন। তখন তিনি তাদের থেকে ওই ছেলে উদ্ধার করেন। তিনি আরো বলেন, পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে সিরিয়াল নিয়ে হয়তো ওদের মধ্যে কোন ঝামেলা হয়েছিল। ওরা হয়তো ওইখানের দালাল হবে।

তিনি জানান, পাসপোট অফিস শহরের বাইরে হওয়ায় অফিসের দালাল চক্র ওই অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজেস প্রায়ই পাসপোর্নিট করেত আসা নিরীহ মানুষকে হয়রানি মারপিট করে ভয় দেখায়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ আছে।

নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, দুপুরে অফিসের মধ্যে অনেক ভির ছিলো। সে সময় সিরিয়াল ভেঙ্গে কাজ করতে গেলে এক সাংবাদিক ও অন্য এক ব্যক্তির সাথে বাকবিতন্ডা হয় একজনের। এর এক পর্যায়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি অফিসের গেইট দিয়ে ভেতরে ঢুকতে গেলে বাধা দেয় দ্বায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য।

সে সময় আনসার সদস্য ভেতরে ঢোকার কারণ জানতে চাইলে বলে ভেতরে দরকার আছে। এরপর একজন ভেতরে ঢুকে তানভির আহম্মেদ জয়কে অফিসের বাইরে নিয়ে ৬/৭ জন মিলে মারধোর করে। ওই সময় সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রকিবুল হাসান পিয়াল সেখানে ছিলো। এবং তিনি স্থানীয়দের থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুনরায় পাসপোর্ট অফিসে ফেরত পাঠায়।

ভুক্তভোগী তানভির আহম্মেদ জয় বলেন, তিনি ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়ী রাজবাড়ীর পাংশার যশাইতে। পাসপোর্ট নবায়ন করতে এসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সকাল থেকে অন্য সবার মত তিনিও সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ দুপুরের দিকে এক ব্যক্তি সিরিয়ালে না দাঁড়িয়ে কাউন্টারে কথা বলার চেষ্টা করে। সে সময় আরেক ব্যক্তি মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও করছে আর ওই ব্যক্তিকে সাপোর্ট করছে।

তখন অন্য এক ব্যক্তি মোবাইলে ভিডিও করা ব্যক্তিকে বলছে আপনি কে? তখন তিনি বলছেন ওনি সাংবাদিক। ওই সময় তিনি বলেন “সাংবাদিক তো এক ব্যক্তির জন্য কথা বলবে না, বলবে সবার জন্য”। মূলত এটাই তার অপরাধ। পড়ে ওই সাংবাদিকের ইশারায় ডেকে গেইটের বাইরে নিয়ে স্থানীয় ৫/৬ জন মিলে অনেক মারধোর করেছে। ওই সময় এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে। নইলে কি হতো ওপরওয়ালাই জানে।