এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ী জেলা পরিষদে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দীপক কন্ডুর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ।

একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী দিপক কন্ডু ভারত ও বাংলাদেশ- দুই দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধভাবে ভারতে অর্থ পাচারসহ তার চরিত্র নিয়েও অভিযোগ করেন আরুজ।

দিপক কন্ডু পাংশা পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন।

রোববার সকালে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন।

প্রার্থী শফিকুল আরো বলেন, দিপক কুন্ডু ভোটারদের অবৈধভাবে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে। তার কাছে এর ভিডিও রের্কড আছে। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে সোমবার তা জমা দেয়া হবে।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন পাংশা উপেজলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল ওহাব মন্ডল ও পাংশা উপজেলার বাবু পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমান আলী সরদার।

মতবিনিময়কালে আব্দুল ওহাব মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, পাংশা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দিপক কুন্ডু ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশেরই নাগরিক। তার পরিবারের সব সদস্য ভারতে থাকে। তিনি শুধু একলা এই দেশে থাকেন।

অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা করে যে অর্থ উপার্জন করে তা অবৈধভাবে ভারতে পাচার করে। বিষয়গুলো আমরা জানতে পেরেছি পৌরসভার সম্মেলনের পর। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা বারবার তাকে সতর্ক করেছি। কিছু দিন আগেও তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী (নারীর সাথে আপত্তিকর ছবি) নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এসব বিষয় নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে তাকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু তিনি আমাদের এসব কোন কথার জবাব দেয়নি। নিজেও সংশোধন হয়নি। তিনি দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে জেলা পরিষদের প্রার্থী হয়েছেন এখানেও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি নোটিশের কোন জবাব দেয়নি।

এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী দীপক কুন্ডুর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দুই দেশের নাগরিক এটি যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তবে যে শাস্তি হয় আমি সেটি মেনে নেব। আর আমি কোন অবৈধ ব্যবসা করি না। সরকার পদ্মা নদীতে বালুমহল ইজারা দেয় সেই বালু মহল ইজারা নিয়ে আমি ব্যবসা করি। এই ব্যবসা আমি না করলে অন্য কেউ করবে। এই ব্যবসা সম্পূর্ণ বৈধ ব্যবসা। আর আমি ভারতে কোন অর্থ পাচার করি না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে যদি প্রমান পায় আমি অর্থ পাচার করি তবে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তিনি আরো বলেন, আমি সম্মেলনের মাধ্যমে পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ এতদিন কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি তারা।

তবে রাজবাড়ী জেলা পরিষদ নির্বাচনে হেভিওয়েড ওই দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিমুখি লড়াই হবে বলে অনেকে মনে করেন।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়াম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী দীপক কুন্ডু ও স্বতন্ত্র ইমামুজ্জামান চৌধুরী রিটো এই তিনজন নির্বাচন করছেন।